Saturday, December 16, 2017

অসুস্থ ব্যক্তির নামাজ আদায় করার বিধি-বিধান

অসুস্থ ব্যক্তির নামাজ আদায় করার বিধি-বিধান :-
অসুস্থ ব্যক্তি যখন দাঁড়াতে অক্ষম হয় তখন সে বসে রুকু-সাজদা করবে। কেননা রাসূলুল্লাহ্ (সা.) ইমরান ইবন হাসীণ (রা.) কে বলেছেন তুমি দাড়িয়ে সালাত আদায় কর। যদি তা না পার তবে বসে (পড়)। যদি তা না পায় তবে পার্শ্বে শয়ন করে ইংগিতের মাধ্যমে। তাছাড়া কুদূরী (র.) বলেন, যদি রুকু-সাজদা করতে না পারে তাহলে ইশারায় তা আদায় করবে।

অসুস্থ ব্যক্তি যখন দাঁড়াতে অক্ষম হয় তখন সে বসে রুকু-সাজদা করবে। কেননা রাসূলুল্লাহ্ (সা.) ইমরান ইবন হাসীণ (রা.) কে বলেছেন তুমি দাড়িয়ে সালাত আদায় কর। যদি তা না পার তবে বসে (পড়)। যদি তা না পায় তবে পার্শ্বে শয়ন করে ইংগিতের মাধ্যমে। তাছাড়া কুদূরী (র.) বলেন, যদি রুকু-সাজদা করতে না পারে তাহলে ইশারায় তা আদায় করবে। অর্থাত্ বসা অবস্থায় (ইশারায় রুকু-সাজদা করবে) কেননা এতটুকু করার সামর্থ্য তার রয়েছে। তবে সাজদার ইশারাকে রুকুর ইশারার তুলনায় অধিক অবনমিত করবে। কেননা ইশারা হল রুকু-সাজদার স্থলবর্তীতা রুকু-সাজদার হুকুম গ্রহণ করবে। কপালের কাছে কোন কিছু উঁচু করে তার উপর সাজদা করবে না। সাজদা করার জন্য কিছু তার কপালের সামনে উঁচু করে ধরা হবে না। কেননা রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন- যদি তুমি ভূমিতে সাজদা করতে পার তবে সাজদা কর। অন্যথায় মাথা দিয়ে ইশারা কর। আর যদি কিছু তুলে ধরা হয় এবং সেই সাথে আপন মাথাও কিণ্চিত অবনত করে, তবে ইশারা পাওয়া যাওয়ার কারণে তা যথেষ্ট হবে। আর যদি উক্ত উত্তোলিত বস্তুকে কপালের উপর শুধু স্থাপন করে তবে ইশারা না হওয়ার কারণে তা যথেষ্ট হবে না। আর যদি বসতে না পারে তবে পিঠের উপর চিত হয়ে শোবে এবং দু’পা কেবলামুখী করবে। এবং ইশারায় রুকু-সাজদা করবে। কেননা রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন- অসুস্থ ব্যক্তি দাড়িয়েঁ সালাত আদায় করবে। যদি তা না পারে তাহলে বসে (আদায় করবে)। যদি তা না পারে তাহলে চিত হয়ে ইশারায় আদায় করবে। যদি তাও না পারে তাহলে আল্লাহ্ তা’আলাই তার ওযর কবূল করার অধিক হকদার।
যদি পার্শ্বে শয়ন করে আর তার চেহারা কেবলামুখী থাকে তবে তা জাইয হবে। প্রমাণ হল ইতোপূর্বে আমাদের বর্ণিত (ইমরান ইব্‌ন হাসীনের) হাদীছ। কিন্তু আমাদের মতে প্রথম সুরতটি উত্তম। ইমাম শাফিঈ (র.) ভিন্নমত পোষণ করেন। কেননা চিত হয়ে শয়নকারী ব্যক্তিরা ইশারা কা’বা শরীফের অভিমুখী হয়। পক্ষান্তরে পার্শ্ব শয়নকারী ব্যক্তির ইশারা তার পদদ্বয় অভিমুখী হয়। অবশ্য তা দ্বারা সালাত আদায় হয়ে যাবে। যদি মাথা দিয়ে ইশারা করতে সক্ষম না হয় তবে তার সালাত বিলম্বিত হবে। কিন্তু চোখ দ্বারা, অন্তর দ্বারা বা চোখের দ্বারা ইশারা করা যাবে না। ইমাম যুফার (এবং আহমদ, শাফিঈ ও মালিক (র.) এর ভিন্নমত রয়েছে। আমাদের প্রমাণ হলো ইতোপূর্বে আমাদের বর্ণিত হাদীছ। তাছাড়া যুক্তি এই যে, নিজস্ব মত দ্বারা স্থলবর্তী নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। আর মাথা দিয়ে ইশারা এর উপর কিয়াস করা সংগত নয়। কেননা মাথা দ্বারা সালাতের রুকন আদায় করা হয় অথচ চোখ বা অপর দু’টি দ্বারা তা করা হয় না। যদি সালাত বিলম্বিত করা হবে-ইমাম কুদূরীর এ বক্তব্যে ইংগিত রয়েছে যে, সালাতের ফরজ তার থেকে রহিত হবে না। যদিও অক্ষমতা একদিন এক রাত্রের বেশী হয় আর সে সজ্ঞানে থাকে। এ-ই বিশুদ্ধ মত। কেননা সে শরীআতের সম্বোধন উপলদ্ধি করতে পারে। অজ্ঞান লোকের বিষয়টি এর বিপরীত।
যদি দাঁড়াতে সক্ষম হয় কিন্তু রুকু-সাজদা করতে সক্ষম না হয়, তাহলে কিয়াম করা জরুরী নয়, বরং বসে ইশারায় (রুকু-সাজদা করে) সালাত আদায় করবে। কেননা, কিয়াম রুকন হয়েছে সাজদায় যাওয়ার মাধ্যম হিসাবে। কারণ, কিয়াম থেকে সাজদায় যাওয়ার মধ্যে চূড়ান্ত তাযীম প্রকাশ পায়, সুতরাং কিয়ামের পরে সাজদা না হলে তা রুকন রূপে গণ্য হবে না। সুতরাং অসুস্থ ব্যক্তিকে ইখতিয়ার দেওয়া হবে। তবে উত্তম হল বসা অবস্থায় ইশারা করা। কেননা তা সাজদার সাথে অধিকতর সাদৃশ্যপূর্ণ। সুস্থ ব্যক্তি দাড়িয়েঁ আংশিক সালাত আদায় করার পর যদি অসুস্থতা দেখা দেয় তাহলে বসে রুকু-সাজদা করে সালাত পূর্ণ করবে। আর সক্ষম না হলে ইশারা দ্বারা আদায় করবে। আর (বসতে) সক্ষম না হলে চিত হয়ে শোয়ে আদায় করবে। কেননা, নিম্নস্তরকে উচ্চস্তরের উপর ‘বিনা’ করেছে। সুতরাং এটা ইকতিদার মত। কোন ব্যক্তি অসুস্থতাবশতঃ বসে রুকু-সাজদা করে সালাত শূরু করল। এরপর (সা্লাতের মাঝেই) সুস্থ হয়ে গেল, তাহলে ইমাম আবূ হানীফা ও আবূ ইউসূফ (র.) এর মতে সে তার পূর্ববর্তী সালাতের উপরই বিনা করে দাড়িয়ে আদায় করবে। আর মুহাম্মদ (র.) এর মতে নতুন করে সালাত শুরু করবে। এ মতপার্থক্যের ভিত্তি হল তাদের ইকতিদা সংক্রান্ত মতপার্থক্য। পূর্বে এর বিবরণ (ইমামাত অনুচ্ছেদ) বর্ণিত হয়েছে। আর যদি আংশিক সালাত ইশারা দ্বারা আদায় করার পর রুকু-সাজদা করতে সক্ষম হয়, তাহলে সকলের মতেই নতুন করে সালাত শুরু করতে হবে। কেননা, ইশারা দ্বারা আদায়কারীর পিছনে রুকু-সাজদাকারীর ইকতিদা করা জাইয নয়। সুতরাং ‘বিনা’ ও জাইয হবে না।
যে ব্যক্তি দাড়ানো অবস্থায় নফল সালাত শুরু করে পরবর্তীতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে, সে লাঠিতে বা দেয়ালে হেলান দিয়ে দাড়াতে পরে কিংবা বসেও আদায় করতে পারে। কেননা, এটা ওযর। বিনা ওযরে হেলান দেওয়া অবশ্যা মাকরূহ। কারণ তা আদবের খেলাফ। কেউ কেউ বলেন ইমাম আবূ হানীফা (র.)এর নিকট তা মাকরূহ। কেননা তার মতে বিনা ওযরে বসা জাইয আছে। সুতরাং হেলান দেয়া মাকরূহ হতে পারে না। ইমাম আবূ হানীফা ও ইমাম মুহাম্মদ (র.) এর মতে যেহেতু (বিনা ওযরে) বসা জা্ইয নেই, সেহেতু হেলান দেয়াও মাকরূহ হবে। যদি (দাড়িয়ে সালাত শুরু করার পর) বিনা ওযরে বসে পড়ে, তাহলে সর্বসম্মতিক্রমেই তা মাকরূহ হবে। তবে আবূ হানীফা (র.) এর মতে সালাত দুরস্ত হবে। কিন্তু সাহেবাইনের মতে দুরস্ত হবে না। নফল অনুচ্ছেদ এ আলোচনা বিগত হয়েছে। কোন ব্যক্তি ‘জলযানে’ ‘বিনা ওযরে’ বসে সালাত পড়লে ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর মতে তা জাইয হবে। তবে দাড়িয়ে আদায় করা উত্তম। আর সাহেবাইন বলেন যে, ওযর ছাড়া তা জা্ইয হবে না। কেননা সামর্থ্য তার আছে। সুতরাং তা পরিত্যাগ করা যাবে না। ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর যুক্তি এই যে, সেখানে মাথা ঘুরানোর সম্ভাবনাই প্রবল সুতরাং সেটা বাস্তবতূল্য। তবে দাড়িয়ে পড়া হল উত্তম। কেননা তা মতপার্থক্যের সংশয় মুক্ত। আর যতটা সম্ভব মতপার্থক্য থেকে দূরে থাকাই উত্তম। কেননা তা অন্তরের জন্য অধিক প্রশান্তিকর। এ মতপার্থক্য নোংগরহীন নৌকার ক্ষেত্রে। পক্ষান্তরে বাধা নৌকা নদীর তীরের (ভূমির) মতই। এটাই বিশুদ্ধ মত।
যে ব্যক্তি পাচ ওয়াক্ত সালাত কিংবা তার কম সময় বেহুশ ছিল, সে কাযা আদায় করবে। আর যদি পাচ ওয়াক্তের বেশী বেহুশ থাকে, তাহলে কাযা আদায় করবে না। এটা সূক্ষ কিয়াসের সিদ্ধান্ত, সাধারণ কিয়াস অনুযায়ী অজ্ঞনতা যদি একপূর্ণ সালাতের ওয়াক্ত স্থায়ী হয়, তাহলে কাযা ওয়াজিব হবে না। কেননা অক্ষমতা সাব্যস্ত হয়েছে। সুতরাং তা পাগল হওয়ার সমতুল্য। সূক্ষ কিয়াসের ব্যাখ্যা এই যে, সময় দীর্ঘ হলে কাযা সালাতের সংখ্যা বেড়ে যায় ফলে আদায় করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। পক্ষান্তরে সময় সংক্ষিপ্ত হলে কাযা সালাতের সংখ্যা কম হয়; ফলে তাতে কোন কষ্ট হবে না। আর বেশীর পরিমাণ হল কাযা সালাত একদিন ও একরাত্র দাড়িয়ে যাওয়া। কেননা তখন তা পুনরাবৃত্তির গণ্ডিতে প্রবেশ করে যায়। আর পাগল হওয়ার হুকুম অজ্ঞান হওয়ার মত। আবূ সুলায়মান (র.) এরূপই উল্লেখ করেছেন। ঘুমের বিষয়টি ভিন্ন। কেননা ঘূম এত দীর্ঘ হওয়া বিরল। সুতরাং সেটা সংক্ষিপ্ত ঘুমের পর্যায়ভূক্ত বলেই গণ্য হবে। ইমাম মুহাম্মদ (র.) এর মতে বেশীর পরিমাণ হিসাব করা হবে সালাতের ওয়াক্ত হিসাবে। কেননা সেটা দ্বারাই পুনরাবৃত্তি সাব্যস্ত হয়। আর ইমাম আবূ মালিক ও ইমাম মুহাম্মদ (র.) এর মতে সময় হিসাবে। ‘আলী (রা.) ও ইবন উমর (রা.) থেকে এটাই বর্ণিত হয়েছে। নির্ভূল সম্পর্কে আল্লাহ্‌ই উত্তম জানেন।

একনজরে নামাজের ইমামতি সম্পর্কিত বিধি-বিধান

একনজরে নামাজের ইমামতি সম্পর্কিত বিধি-বিধান :-
জামাআত সুন্নাতে মুআক্কাদা। কেননা রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- জামাআত হিদায়াতের পরিচায়ক সুন্নত, মুনাফিক ছাড়া কেউ তা থেকে পিছিয়ে থাকে না। ইমামতির জন্য সর্বাধিক যোগ্য ব্যক্তি হলেন যিনি সালাতের মাসাইল সম্পর্কে অধিকতর জ্ঞানী। ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) থেকে বর্ণিত, যিনি কিরাত সর্বোত্তম। কেননা সালাতে কিরাত অপরিহার্য। আর ইলমের প্রয়োজন হয় কোন ঘটনা দেখা দিলে। এর উত্তরে আমরা বলি, একটি রুকন আদায়ে আমরা কিরাতের মুখাপেক্ষী আর সকল রুকন আদায়ে আমরা ইলমের মুখাপেক্ষী।
জামাআত সুন্নাতে মুআক্কাদা। কেননা রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- জামাআত হিদায়াতের পরিচায়ক সুন্নত, মুনাফিক ছাড়া কেউ তা থেকে পিছিয়ে থাকে না। ইমামতির জন্য সর্বাধিক যোগ্য ব্যক্তি হলেন যিনি সালাতের মাসাইল সম্পর্কে অধিকতর জ্ঞানী। ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) থেকে বর্ণিত, যিনি কিরাত সর্বোত্তম। কেননা সালাতে কিরাত অপরিহার্য। আর ইলমের প্রয়োজন হয় কোন ঘটনা দেখা দিলে। এর উত্তরে আমরা বলি, একটি রুকন আদায়ে আমরা কিরাতের মুখাপেক্ষী আর সকল রুকন আদায়ে আমরা ইলমের মুখাপেক্ষী। ইলমের (ক্ষেত্রে উপস্থিত) সকলে সমান হলে যিনি কিরাতে সর্বোত্তম। কেননা রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন- আল্লাহর কিতাব পাঠে সর্বোত্তম ব্যক্তি কাওমের ইমাম হবে। যদি এতে সকলে বরাবর হয় তাহলে সুন্নত সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞানী ব্যক্তি (ইমাম হবে)। উল্লেখ্য যে, সে যুগে কিতাবুল্লাহ্ পাঠে উত্তম ব্যক্তিই সর্বাধিক জ্ঞানীও হতেন। কেননা, তাঁরা আহকাম ও মাসায়েলসহ কুরআন শিক্ষা করতেন। তাই হাদীছে কিতাবুল্লাহ্ পাঠে সর্বোত্তম ব্যক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমাদের যুগে অবস্থা সেরূপ নয়, তাই আমরা (দীনী ইলমে) সর্বাধিক জ্ঞানী ব্যক্তিকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। এ ক্ষেত্রে সকলে সমান হলে যিনি অধিকতর বয়োজ্যেষ্ঠ। কেননা নবী (সা.) আবূ মুলায়কার পুত্রদ্বয়কে বলেছিলেন- তোমাদের দুজনের মধ্যে যে বয়োজ্যেষ্ঠ সে-ই ইমামতি করে। তাছাড়া বয়োজ্যেষ্ঠকে আগে বাড়ালে জামাআতের সমাগম বর্ধিত হবে। দাসকে (ইমামতির জন্য) আগে বাড়ানো মাকরূহ। কেননা শিক্ষালাভের জন্য (সাধারণতঃ) সে অবসর পায় না। এবং বেদুঈন (ও গ্রাম্য) কে। কেননা, মূর্খতাই তাদের মাঝে প্রবল এবং ফাসিককে। কেননা, সে দীনী বিষয়ে যত্নবান নয়। এবং অন্ধকে কেননা, সে পূর্ণরূপে নাপাকি থেকে বেচে থাকতে পারে না। আর জারজ সন্তানকে। কেননা, তার পিতা (ও অভিভাবক)নেই, যে তার শিক্ষা-দীক্ষার ব্যবস্থা করবে। সুতরাং অজ্ঞতাই তার উপর প্রভাবিত হয়। তাছাড়া এদের আগে বাড়ানোর কারণে জনগণের মধ্যে ঘৃণা সৃষ্টি হয়। সুতরাং তা মাকরূহ। তবে যদি তারা আগে বেড়ে যায় তাহলে সালাত দুরুস্ত হবে। কেননা রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন- তোমরা সালাত আদায় কর যে কোন নেককার ও বদকারের পিছনে।
ইমাম মুক্তাদীদের নিয়ে সালাত আদায় করতে দীর্ঘ করবে না। কেননা রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন-
যে ব্যক্তি কোন জামাআতের ইমামতি করে, সে যেন তাদের দুর্বলতম ব্যক্তির অবস্থা অনুযায়ী সালাত আদায় করে। কেননা, তাদের মধ্যে রোগী, বৃদ্ধ ও প্রয়োজনগ্রস্ত ব্যক্তি থাকতে পারে। স্ত্রী লোকদের এককভাবে জামাআত করা মাকরূহ। কেননা, তা একটি নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে মুক্ত নয়। আর সেটা হলো কাতারের মাঝে ইমামের দাঁড়ানো। সুতরাং মাকরূহ হবে, যেমন উলঙ্গদের জামাআতের হুকুম। তবে যদি তারা তা করে তাহলে ইমাম তাদের মাঝে দাড়াবে। কেননা, আইশা (রা.) অনুরূপ করেছেন।আর তার এই জামাআত অনুষ্ঠান ইসলামের প্রাথমিক অবস্থার সাথে সম্পর্কিত। তাছাড়া এজন্য যে, আগে বেড়ে দাড়ানোতে অতিরিক্ত প্রকাশ ঘটে। যে ব্যক্তি এক মুকতাদী নিয়ে সালাত আদায় করবে, সে তাকে নিজের ডানপাশে দাঁড় করাবে। কেননা, ইবন আব্বাস (রা.) বর্ণিত হাদীছে আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা.) তাকেঁ মুক্তাদী করে সালাত আদায় করেছেন এবং তাকে নিজের ডান পাশে দাড় করিয়েছেন। আর সে ইমামের পিছনে দাড়াবে না। ইমাম মুহাম্মদ (র.) থেকে বর্ণিত আছে যে, মু্ক্তাদী তার পায়ের আংগুল ইমামের গোড়ালি বরাবর রাখবে। তবে প্রথম মতই যাহিরে রিওয়ায়াতের। অবশ্য যদি ইমামের পিছনে বা বামে দাড়িয়ে সালাত আদায় করে তাহলে জাইয হবে। তবে সুন্নাতের বিরোধিতার কারণে সে গুনাহগার হবে। আর যদি দুই ব্যক্তির ইমামতি করেন, তাহলে তিনি তাদের আগে দাড়াবেন। আর ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) থেকে বর্ণিত যে, উভয়ের মধ্যখানে দাড়াবে। আর আবদুল্লাহ্ ইবন মাসঊদ (রা.) এরূপ করেছেন বলে বর্ণিত আছে। আমাদের দলীল এই যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা.) আনাস (রা.) ও তার ইয়াতীম ভাইকে নিয়ে সালাত আদায়ের সময় উভয়ের আগে দাড়িয়েছিলেন। সুতরাং এ হাদীছের দ্বারা উত্তম প্রমাণিত হয়, আর সাহাবীর আমল দ্বারা এরূপ দাড়ানো মুবাহ প্রমাণিত হয়।
পুরুষদের জন্য কোন নারী বা নাবালেগের পিছনে ইকতিদা করা জাইয নয়। স্ত্রী লোকের পিছনে জাইয না হওয়ার কারণ এই যে, নবী (সা.) বলেছেন- আল্লাহ্ যেমন তাদের পিছনে রেখেছেন, তেমনি তোমরাও তাদের পিছনে রাখ। সুতরাং তাদের (ইমামতির জন্য) আগে বাড়ানো জাইয নয়। আর নাবালেগের পিছনে জাইয না হওয়ার কারণ এই যে, সে নফল আদায়কারী। সুতরাং তার পিছনে ফরজ আদায়কারীর ইকতিদা জাইয হবে না। তবে তারাবীহ ও নিয়মিত সুন্নাত এর ক্ষেত্রে বালখ এর মাশায়েখগণ জাইয রেখেছেন আর আমাদের মাশায়েখগণ তা অনুমোদন করেননি। আবার কারো কারো তাহকীক অনুযায়ী সাধারণ নফলের ক্ষেত্রে ইমাম আবূ ইউসূফ ও ইমাম মুহাম্মদ (সা.) এর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। তবে গ্রহণযোগ্য মত এই যে, কোন সালাতেই তাদের (ইমামতি) জাইয নয়। কেননা, নাবালেগের নফল বালেগের নফলের চেয়ে নিম্নমানের। কেননা, ইজমায়ী মতানুসারে সালাত ভংগ করার কারণে নাবালেগের উপর কাযা ধর্তব্য। আর দুর্বলের উপর প্রবলের ভিত্তি হতে পারে না। ধারণা-ভিত্তিক সালাত এর ব্যতিক্রম। কেননা, (ভঙ্গ হলে কাযা করতে হবে কিনা) এতে মতভেদ রয়েছে। সুতরাং উদ্ভূত ধারণা (মুকতাদীর বেলায়) অস্তিত্বহীন বলে বিবেচিত। অবশ্য নাবালেগের পিছনে নাবালেগের ইকতিদার হুকুম ভিন্ন (অর্থাত্ জাইয) কেননা, উভয়ের সালাত সমমানের।
প্রথমে পুরুষে কাতার করবে। তারপর নাবালেগ ও তারপর স্ত্রী লোকেরা। কেননা রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন- তোমাদের প্রাপ্ত-বয়স্ক এবং জ্ঞানবানরা যেন আমার কাছাকাছি থাকে। আর যেহেতু নারী-পুরুষ এক সমানে দাড়ানো সালাত ভংগকারী; সুতরাং তাদের পশ্চাদবর্তিণী রাখা হবে। যদি স্ত্রীলোক পুরুষের পার্শে দাড়ায় আর উভয়ে একই সালাতে শরীক হয়, তাহলে পুরুষের সালাত ফাসিদ হয়ে যাবে, যদি ইমাম স্ত্রী লোকের ইমামতির নিয়্যত করে থাকেন। আর সাধারণ কিয়াসের চাহিদা হল সালাত ফাসিদ না হওয়া। এবং এ-ই হল ইমাম শাফিঈ (র.) এর মত। স্ত্রীলোকটির সালাতের উপর কিয়াস অনুযায়ী; যেহেতু তার সালাত ফাসিদ হয় না। আর সূক্ষ কিয়াসের কারণ হলো আমাদের বর্ণিত হাদীছ, মশহূর শ্রেণীভূক্ত। আর সেই হাদীছে পুরুষকেই সম্বোধন করা হয়েছে, স্ত্রীলোককে নয়। সুতরাং পুরুষই হচ্ছে স্থানগত ফরজ বর্জনকারী। সুতরাং তার সালাতই ফাসিদ হবে, স্ত্রী লোকটির সালাত নয়। যেমন মুক্তাদী (এর সালাত ফাসিদ হয়) ইমামের আগে দাড়ালে। আর যদি ইমাম স্ত্রীলোকের ইমামতির নিয়্যত না করে থাকেন, তাহলে পুরুষটির সালাতের ক্ষতি হবে না; স্ত্রীলোকটির সালাত দুরস্ত হবে না। কেননা আমাদের মতে ইমামের নিয়্যত ছাড়া সে সালাতে শামিল হওয়া সাব্যস্ত হবে না। ইমাম যুফার (র.) ভিন্নমত পোষণ করেন। তুমি কি লক্ষ্য করছ না যে, স্থানের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা ইমামের কর্তব্য। সুতরাং তার দায়িত্ব গ্রহণের উপর বিষয়টি নির্ভর করবে। যেমন ইকতিদার ক্ষেত্রে (মুকতাদির জন্য ইমামের নিয়্যত করা জরুরী)।
তবে ইমামের নিয়্যত তখনই শর্ত হবে, যখন সে কোন পুরুষের পার্শ্বে ইকতিদা করে। পক্ষান্তরে যদি তার পাশে কোন পুরুষ না থাকে, তবে সে ক্ষেত্রে দুটি মত রয়েছে। উক্ত দুটি মতের একটির ক্ষেত্রে পার্থক্যের কারণ এই যে, প্রথম সুরতে তো সালাত ফাসিদ হওয়া অনিবার্য। আর দ্বিতীয় সুরতে সম্ভাবনা যুক্ত। সালাত নষ্টকারী এক সমানে দাড়ানো এর জন্য শর্ত হলো (উভয়ের) সালাত অভিন্ন হওয়া এবং (রুকু-সাজদা বিশিষ্ট) সাধারণ সালাত হওয়া। আর স্ত্রীলোকটি কামোত্তেজনাযোগ্য হওয়া এবং উভয়ের মাঝে কোন আড়াল না থাকা। কেননা, কিয়াস ও যুক্তির বিপরীতে শরীআতের বাণী দ্বারা সালাত ফাসাদকারিণী প্রমাণিত হয়েছে। সুতরাং বাণী সংশ্লিষ্ট সকল উপস্থিত থাকতে হবে। স্ত্রী লোকদের জামাআতে হাযির হওয়া মাকরূহ। অর্থাত্ তাদের মধ্যে যারা যুবতী (তাদের জন্য এ হুকুম) কেননা তাতে ফতনার আশংকা রয়েছে। বৃদ্ধাদের জন্য ফরজ, মাগরিব ও ঈশার জামাআতের উদ্দেশ্য বের হওয়াতে অসুবিধা নেই। এ হল ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর মত। ইমাম আবূ ইউসূফ ও ইমাম মুহাম্মদ (র.) বলেন, সকল সালাতেই তারা বের হতে পারে। কেননা, আকর্ষণ না থাকায় ফিতনার আশংকা নেই। তাই মাকরূহ হবে না, যেমন ঈদের জামাআতে। ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর দলীল হলো; প্রবৃত্তির (দুষ্কর্মে) উদ্বুদ্ধ করে থাকা। সুতরাং ফিতনা ঘটতে পারে। তবে যুহর, আসর ও জুমুআর সময় ফাসিকদের উপদ্রব থাকে। আর ফজর ও ঈশার সময় (সাধারণতঃ) তারা ঘুমিয়ে থাকে এবং মাগরিবে পানাহারে মশগুল থাকে। আর (ঈদের) মাঠ প্রশস্ত হওয়ার কারণে পুরুষদের থেকে পাশ কেটে থাকা তাদের পক্ষে সম্ভব। তাই মাকরূহ হয় না। ইমাম কুদূরী (র.) বলেন, পবিত্র ব্যক্তি মুস্তাহাযা এর শ্রেণীভুক্ত ব্যক্তির পিছনে সালাত আদায় করবে না। সেরূপ পবিত্র স্ত্রীলোকও মুস্তাহাযা এর পিছনে সালাত আদায় করবে না। কেননা সুস্থ ব্যক্তির (তাহারাতের) অবস্থা মাযূর ব্যক্তির চেয়ে উন্নততর। আর কোন কিছু তার চেয়ে উন্নত কিছুর দায়িত্ব বহন করতে পারে না। আর ইমাম হচ্ছেন দায়িত্ব বহনকারী। অর্থাত্ মুক্তাদির সালাত তার সালাতের আওতাভূক্ত।
কুরআন পাঠে সক্ষম ব্যক্তি উম্মী লোকের পিছনে এবং বস্ত্রধারী ব্যক্তি উলংগ ব্যক্তির পিছনে সালাত আদায় করবে না। কেননা, তাদের দুজনের অবস্থা উন্নততর। আর জাইয রয়েছে তায়াম্মুমকারীর জন্য উযূকারীদের ইমামতী করা। এ হল ইমাম আবূ হানীফা ও ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) এর মত। আর ইমাম মুহাম্মদ (র.) বলেন, জাইয হবে না। কেননা, তায়াম্মুম জরুরী অবস্থায় তাহারাত। আর পানি হল তাহারাতের মূল উপাদান। ইমাম আবূ হানীফা ও আবূ ইউসূফ (র.) এর দলীল এই যে, এটা (সাময়িক তাহারাত নয় বরং) সাধারণ তাহারাত। সুতরাং এ কারণেই তা প্রয়োজনের সাথে সীমিত থাকে না। (মোজায়) মাসহকারী পা ধৌতকারীর ইমামতি করতে পারে। কেননা, মোজা পায়ের পাতায় হাদাছ এর অনুপ্রবেশে বাধা দেয়। আর মোজায় যে হাদাছ যুক্ত হয়, সেটাকে মাসহ দূর করে দেয়। মুস্তাহাযার বিষয়টি এর ব্যতিক্রম। কেননা বাস্তবে হাদাছ বিদ্যমান থাকা অবস্থায় শরীআত তা বিদূরিত হয়ে গেছে বলে গণ্য করে। দাড়িয়ে সালাত আদায়কারী বসে সালাত আদায়কারীর পিছনে (ইকতিদা করে) সালাত আদায় করতে পারে। ইমাম মুহাম্মদ (র.) বলেন, তা জাইয হবে না। কিয়াসের দাবী এ-ই। কেননা, দাড়িয়ে সালাত আদায়কারীর অবস্থা উন্নততর।
আমরা হাদীছের কারণে কিয়াস বর্জন করেছি। কেননা, বর্ণিত আছে যে, নবী (সা.) তার শেষ সালাত আদায় করেছেন আর লোকজন তার পিছনে দাড়িয়ে ছিলেন। ইশারায় সালাত আদায়কারী অনুরূপ ব্যক্তির পিছনে সালাত আদায় করতে পারে। কেননা, উভয়ের অবস্থা সমান। তবে যদি মুকতাদী বসে এবং ইমাম শুয়ে ইশার করে তবে তার পিছনে জাইয হবে না। কেননা, বসা শরীআতে স্বীকৃত। সুতরাং এর দ্বারা তা উন্নত হওয়া প্রমাণিত হয়। রুকু-সাজদাকারী ব্যক্তি ইশারাকারী ব্যক্তির পিছনে সালাত আদায় করবে না। কেননা, মুকতাদীর অবস্থা উন্নততর। এ সম্পর্কে ইমাম যুফার (র.) ভিন্নমত পোষণ করেন। ফরজ আদায়কারী নফল আদায়কারী ভিন্ন ফরজ আদায়কারী ব্যক্তির পিছনে সালাত আদায় করবে না। কেননা, ইকতিদা অর্থ ভিত্তি করা, আর এখানে ইমামের ক্ষেত্রে ফরজ গুণটি নেই। সুতরাং যে গুণ নেই, তার উপর ভিত্তি স্থাপিত হবে না। ইমাম কুদূরী বলেন এক ফরজ আদায়কারী ভিন্ন ফরজ আদায়কারী ব্যক্তির পিছনে সালাত আদায় করবে না। কেননা, ইকতিদা হলো (একই তাহরীমায়) শামিল হওয়া এবং সামঞ্জস্য রক্ষা করা। সুতরাং (সালাতে) অভিন্নতা অপরিহার্য। ইমাম শাফিঈ (র.) এর মতে উপরোক্ত সকল ক্ষেত্রে ইকতিদা সহীহ। কেননা, তার মতে ইকতিদা হল সমন্বিত রূপে আদায় করা। আর আমাদের মতে দায়িত্বের অন্তর্ভুক্তির অর্থ বিবেচ্য।
নফল আদায়কারী ফরজ আদায়কারীর পিছনে সালাত আদায় করতে পারে। কেননা, নফল আদায়কারীর জন্য শুধু মূল সালাত থাকাই হল প্রয়োজন। আর ইমামের ক্ষেত্রে মূল সালাত বিদ্যমান রয়েছে। সুতরাং এর উপর ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। যে ব্যক্তি কোন ইমামের পিছনে ইকতিদা করলো তারপর জানতে পারলো যে, তার ইমাম হাদাছগ্রস্ত; তখন তাকে সালাত দোহরাতে হবে। কেননা, রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন- যে ব্যক্তি কোন জামাআতের ইমামতি করলো, তারপর প্রকাশ পেল যে, সে হাদাসগ্রস্ত অথবা জুনুবী, তখন সে নিজেও সালাত দোহরাবে এবং মুকতাদিরাও দোহরাবে। এ বিষয়ে ইমাম শাফিঈ (র.) ভিন্নমত পোষণ করেন। পূর্ব বর্ণিত যুক্তির ভিত্তিতে। আর আমরা অন্তর্ভূক্তির মর্ম বিবেচনা করি। আর তা জাইয হওয়া ও ফাসিদ হওয়া উভয় ক্ষেত্রেই প্রয়োজ্য হবে। কোন উম্মী ব্যক্তি যখন কুরআন পাঠে সক্ষম একদল লোক এবং উম্মী একদল লোকের ইমামতি করে, তখন ইমাম আবূ হানীফা (র.)এর মতে সকলের ফাসিদ হয়ে যাবে। ইমাম আবূ ইউসূফ ও ইমাম মুহাম্মদ (র.) বলেন, ইমামের সালাত এবং যারা কুরআন পাঠে সক্ষম নয়, তাদের সালাত পূর্ণাংগ হয়েছে। কেননা, ইমাম নিজে মাযূর এবং তিনি একদল মাযূর লোকের ইমামতি করেছেন। সুতরাং এটি ঐ অবস্থার সদৃশ, যখন কোন উলংগ ব্যক্তি একদল উলংগ ও একদল বস্ত্রধারীর ইমামতি করেন।
ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর দলীল এই যে, ইমাম কিরাতের উপর সক্ষমতা সত্ত্বেও কিরাতের ফরজ তরক করেছে। সুতরাং তার সালাত ফাসিদ হবে। সক্ষমতার কারণ এই যে, সে যদি কারীর পিছনে ইকতিদা করতো তাহলে কারীর কিরাত তার কিরাত হতো। আর ঐ মাসআলাটি এবং এর অনুরূপ মাসআলার হুকুম ভিন্ন। কেননা, ইমামের ক্ষেত্রে যা বিদ্যমান, তা মুকতাদীর ক্ষেত্রে বিদ্যমান রূপে গণ্য হবে না। যদি উম্মী ও কারী একা একা সালাত আদায় করে, তাহলে তা জাইয হবে। এই বিশুদ্ধমত। কেননা,তাদের উভয় থেকে জামাআতের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ পায়নি। ইমাম যদি প্রথম দুই রাকাআতে কিরাত পাঠ করে, অতঃপর শেষ দুই রাকাআতে কোন উম্মীকে (নায়িব হিসাবে) আগে বাড়িয়ে দেয়, তাহলে সকলের সালাত ফাসিদ হয়ে যাবে। ইমাম যুফার (র.) বলেন, সালাত ফাসিদ হবে না। কেননা, কিরাতের ফরজ আদায় হয়ে গেছে। আমাদের দলীল এই যে, প্রতিটি রাকাআতই সালাত। সুতরাং তা কিরাত থেকে খালি হতে পারে না। বাস্তবে হোক কিংবা গণ্য করা হিসাবে হোক। আর উম্মীর ক্ষেত্রে যোগ্যতা না থাকার কারণে কিরাতকে বিদ্যমান গণ্য করার অবকাশ নেই। উক্ত দলীলের ভিত্তিতে অনুরূপ মতপার্থক্য রয়েছে। তাশাহুদের সময় তাকে আগে বাড়ালেও। সঠিক বিষয় আল্লাহই অধিক জানেন।

কাবা ঘরের অভ্যন্তরে নামাজ আদায় করার বিধান

কাবা ঘরের অভ্যন্তরে নামাজ আদায় করার বিধান :-
কাবার অভ্যন্তরে ফরজ ও নফল সালাত আদায় জাইয। উভয় বিষয়ে ইমাম শাফিঈ (র.) এর ভিন্ন মত রয়েছে। আর শূধু ফরযের ব্যাপারে মালিক (র.) এর ভিন্ন মত রয়েছে। আমাদের দলীল রাসূলূল্লাহ্ (সা.) মক্কা বিজয়ের দিন কাবা ঘরের অভ্যন্তরে সালাত আদায় করেছেন। আর এ কারণে যে, অভ্যন্তরীণ সালাতের যাবতীয় শর্ত সম্পন্ন হয়েছে।
কাবার অভ্যন্তরে ফরজ ও নফল সালাত আদায় জাইয। উভয় বিষয়ে ইমাম শাফিঈ (র.) এর ভিন্ন মত রয়েছে। আর শূধু ফরযের ব্যাপারে মালিক (র.) এর ভিন্ন মত রয়েছে। আমাদের দলীল রাসূলূল্লাহ্ (সা.) মক্কা বিজয়ের দিন কাবা ঘরের অভ্যন্তরে সালাত আদায় করেছেন। আর এ কারণে যে, অভ্যন্তরীণ সালাতের যাবতীয় শর্ত সম্পন্ন হয়েছে। এতে কেবলামুখী হওয়াও পালিত হয়েছে। কেননা সমগ্র কা’বা সম্মুখে রাখা শর্ত নয়। ইমাম যদি কা’বার ভিতরে জামা’আতের ইমামতি করেন, আর তখন মুক্তাদীদের কেউ ইমামের পিঠের দিকে নিজের পিঠ দিয়ে দাড়ায় তবুও জাইয হবে। কেননা সে কেবলামুখী রয়েছে আপন ইমামকে ভুলের উপর রয়েছে বলেও সে মনে করে না। চিন্তা করে কিবলা নির্ধারণের বিষয়টি এর বিপরীত।
আর তাদের মাঝে যে ইমামের দিকে পিঠ দিয়ে দাড়াবে, তার নামায জাইয হবে না। কেননা যে তার ইমামের চেহারার দিকে পিঠ দিয়ে দাড়াবে, তার নামায জাইয হবে না। কেননা সে তার ইমামের অগ্রবর্তী হয়ে গেছে। ইমাম যদি মাসজিদুল হারামে সালাত পড়ান আর লোকেরা কা’বার চারপাশে হালকা করে দাড়ায় এবং ইমামের সালাতে ইকতিদা করে সালাত পড়ে তা হলে তাদের মধ্যে যে কাবা’র দিকে ইমামের চেয়ে অধিক নিকটবর্তী হয়, তারও সালাত জাইয হবে, যদি সে পাশে না দাড়িয়ে থাকে, যে পাশে ইমাম আছেন। কেননা একই পার্শ্বে হওয়ার বেলায়ই অগ্রবর্তিতা ও পশ্চাদবর্তিতা প্রকাশ পাবে।
এ সম্পর্কে ইমাম শাফিঈ (র.) ভিন্নমত পোষণ করেন। কারণ, আমাদের মতে কা’বা হল আসমান পর্যন্ত খোলা স্থল ও শূন্য স্থান, ভবন নয়। আর ভবন তো স্থানান্তরিতও হতে পারে। এ জন্যই তো কেউ জাবালে আবূ কূবায়স এর চূড়ায় উঠে সালাত আদায় করলে তার সালাত জাইয হবে। অথচ ভবন তো তার সম্মুখে বিদ্যমান নেই। অবশ্য কা’বার পাশে আদায় মাকরূহ। কেননা এতে কা’বার প্রতি অসম্মান করা হয় এবং এ সম্পর্কে নবী (সা.) থেকে নিষেধাজ্ঞা বর্ণিত আছে।

নামাজে সুরা-কিরাত তেলাওয়াত সংক্রান্ত বিধি-বিধান

নামাজে সুরা-কিরাত তেলাওয়াত সংক্রান্ত বিধি-বিধান :-
ফরজ সালাতের দুই রাকাআতে কিরাআত ওয়াজিব ইমাম শাফিঈ (র.) সকল রাকাআতে ওয়াজিব বলেন। কেননা রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন- কিরাত ছাড়া সালাত শুদ্ধ নয়। আর প্রতিটি রাকাআতঈ সালাত। ইমাম মালিক (র.) তিন রাকাআতে কিরাত ফরজ বলেন। সহজ করার নিমিত্ত অধিকাংশকে সমগ্রের তুল্য মনে করেন। আমাদের দলীল হলো আল্লাহ্ তা’আলা বলেছেন- কুরআনের যতটুকু সহজ হয় পাঠ কর।

ফরজ সালাতের দুই রাকাআতে কিরাআত ওয়াজিব ইমাম শাফিঈ (র.) সকল রাকাআতে ওয়াজিব বলেন। কেননা রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন- কিরাত ছাড়া সালাত শুদ্ধ নয়। আর প্রতিটি রাকাআতঈ সালাত। ইমাম মালিক (র.) তিন রাকাআতে কিরাত ফরজ বলেন। সহজ করার নিমিত্ত অধিকাংশকে সমগ্রের তুল্য মনে করেন। আমাদের দলীল হলো আল্লাহ্ তা’আলা বলেছেন- কুরআনের যতটুকু সহজ হয় পাঠ কর। আর কোন কাজের আগে পুনরাবৃত্তির দাবী রাখে না। তবে দ্বিতীয় রাকাআতে আমরা কিরাত ওয়াজিব করেছি প্রথম রাকাআতের সাথে তুলনা করে। কেননা উভয় রাকাআত সকল দিক থেকে সদৃশ। পক্ষান্তরে দ্বিতীয় দুই রাকাআতের পার্থক্য রয়েছে প্রথম দুই রাকাআত থেকে। সফর বাইর হওয়ার এবং কিরাতের গুণে (উচ্চৈস্বরে নীরব পড়ার ব্যাপারে) এবং কিরাতের পরিমাণের ব্যাপারে।দ্বিতীয় দুই রাকাআত প্রথম দুই রাকাআতের সাথে মিলিত হবে না। আর শাফিঈ (র.) বর্ণিত হাদীছে সালাত শব্দটি সুস্পষ্ট রূপে উল্লেখিত হয়েছে। সুতরাং তা পূর্ণ সালাতের উপর প্রযোজ্য হবে। আর তা সাধারণ ব্যবহারে দুই রাকাআতই হয়। যেমন কেউ কোন সালাত আদায় করবেন বলে শপথ করল (এতে দুই রাকাআত পড়লেই শপথ ভঙ্গ হবে)। পক্ষান্তরে যদি শপথ করে যে, সে ‘সালাত’ আদায় করবে না (এতে এক রাকাআত পড়লেও সে শপথভঙ্গকারী হবে)। শেষ দুই রাকাআতে সে তার ইচ্ছার উপর ন্যস্ত। অর্থাত্ ইচ্ছা করলে সে নীরব থাকবে। ইচ্ছা করলে কিরাত পড়বে। আবার ইচ্ছা করলে তাসবীহ পাঠ করবে। আবূ হানীফা (র.) থেকে এরূপই বর্ণিত হয়েছে। আলী (রা.) ইবন মাসঊদ ও ‘আইশা (রা.) থেকে এ-ই বর্ণিত হয়েছে। তবে কিরাত পড়াই উত্তম। কেননা নবী করিম (সা.) (প্রায় সর্বদাই এরূপ করেছেন) একারণেই জাহিরী রিওয়ায়াত মতে তা তরক করার কারণে সাজদা সাহু ওয়াজিব হয় না।
নকলের সকল রাকাআতে এবং বিতরের সকল রাকাআতে কিরাত ওয়াজিব। নফলে ওয়াজিব হওয়ার কারণ এই যে, নফলের প্রতি দুই রাকাআত আলাদা সালাত বিশিষ্ট। এবং তৃতীয় রাকাআতের জন্য দাড়ানো নতুন তাহরীমা বাধার সমতুল্য। একারণেই আমাদের ইমামদের প্রসিদ্ধ মতে প্রথম তাহরীমা দ্বারা দুই রাকাআতই শুধু ওয়াজিব হয়। তাই ফকীহ্গণ বলেছেন যে, তৃতীয় রাকাআতে (প্রথম রাকাআতের ন্যায়) ছানা পড়বে। অর্থাত্ সুবহানাকা আল্লাহুম্মা পড়বে। আর বিতরে ওয়াজিব করা হয়েছে সতর্কতার দৃষ্টিকো্ণে। ইমাম কুদুরী (র.) বলেন, যে ব্যক্তি নফল শুরু করে তা ভেঙ্গে ফেলে, তবে তা কাযা করবে। আর ইমাম শাফিঈ (র.) বলেন, তার উপর কাযা ওয়াজিব নয়। কেননা, সে তা স্বেচ্ছায় আরম্ভ করেছে। আর সে স্বেচ্ছায় কিছু করে, তার উপর বাধ্যবাধকতা আরোপিত হয় না। আমাদের দলীল এই যে, আদায়কৃত অংশটুকু ইবাদতে গণ্য হয়েছে। সুতরাং তা পূর্ন করা অনিবার্য। যেহেতু আমলকে নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করা জরুরী। যদি চার রাকাআত সালাত শূরু করে এবং প্রথম দুই রাকা্আতে কিরাত পড়ে ও বৈঠক করে, এরপর শেষ দুই রাকাআত নষ্ট করে ফেলে তবে দুই রাকাআত কাযা করবে। কেননা, প্রথম দু’রাকাআত পূর্ণ হয়ে গেছে। আর তৃতীয় রাকাআতের জন্য দাড়ানো নতুনভাবে তাহরীমা করার সমতুল্য। সুতরাং তা সে ওয়াজিব করে নিয়েছে। এ হুকুম তখনকার জন্য, যখন শেষ দুই রাকাআত শুরু করার পর নষ্ট করে। আর যদি দ্বিতীয় দু’রাকাআত শুরু করার আগেই নষ্ট করে ফেলে তবে শেষ দু’রাকাআত কাযা করবে না। ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) থেকে বর্ণিত আছে যে, সালাত শুরু করাকে মান্নতের উপর কিয়াস করে চার রাকাআত কাযা করবে।
ইমাম আবূ হানীফা ও মুহাম্মদ (র.) এর দলীল এই যে, আরম্ভ অবশ্য পালনীয় করে ঐ অংশকে, যা আরম্ভ করা হয়েছে এবং যে অংশ ছাড়া ঐ কর্ম শূদ্ধ হয় না। আর প্রথম দুই রাকাআতের শুদ্ধতা দ্বিতীয় অংশের সাথে সম্পৃক্ত নয়। দ্বিতীয় রাকাআতের বিষয়টি এর বিপরীত। যুহরের সুন্নত সম্পর্কেও একই মতভিন্নতা। কেননা, মূলতঃ এটা নফল কোন কোন মতে সতর্কতা হিসাবে চার রাকাআতই কাযা করবে। কেননা তা সম্পূর্ণ একই সালাত হিসাবে গণ্য। আর যদি কেউ চার রাকাআত (নফল সালাত) আদায় করলেন আর তাতে কোন কিরাত পড়ল না, তবে সে দুই রাকাআতই দোহরাবে। এটা ইমাম আবূ হানীফা ও মুহাম্মদ (র.)এর মত। ইমাম আবূ ইউসূফ (র.)এর মতে চার রাকাআত কাযা করবে। এ মাসআলা আট প্রকারের। মাসাআলার মূল কথা এই যে, মুহাম্মদ (র.) এর মতে প্রথম দুই রাকাআতে কিংবা দুই রাকাআতের যে কোন একটিতে কিরাআত তরক করা তাহরীমাকে বাতিল করে দেয়। কেননা তাহরীমা বাধা হয় কর্ম সম্পাদনের জন্য। ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) এর মতে প্রথম দুই রাকাআতে কিরাতে তরক করা তাহরীমাকে বাতিল করে না, বরং সালাত আদায় হও্রয়াকে ফাসিদ করে। কেননা কিরাত হলো সালাতের অতিরিক্ত রুকন। দেখূন না কিরাত ছাড়াও সালাতের অস্তিত্ব হয়ে যায়। যেমন (বোবা মানুষের) তবে কিরাতে ছাড়া সালাত আদায় বিশুদ্ধ নয়। আ আদায় ফাসিদ হওয়া রুকন তরক করার চেয়ে গুরুতর নয়। সুতরাং তাহরীমা বাতিল হবে না। ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর মতে প্রথম দুই রাকাআতে কিরাত তরক করা তাহরীমাকে বাতিল করে দেয় কিন্তু দুই রাকাআতের শুধু এক রাকাআতে তরক করা বাতিল করে না। কেননা প্রতি দুই রাকাআত স্বতন্ত্র নামায। আর এক রাকাআতে কিরাত তরফ করার কারণে নামায নষ্ট হওয়া বিতর্কিত বিষয়। তাই সতর্কতা অবলম্বনে আমরা কাযা ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে নামায নষ্ট হওয়ার রায় দিয়েছি। আর দ্বিতীয় রাকাআতদ্বয় আবশ্যক হওয়ার ক্ষেত্রে তাহরীমা অব্যাহত থাকার রায় দিয়েছি।
এই মূলনীতি সাব্যস্ত হওয়ার পর আমাদের বক্তব্য হলো; কোন রাকাআতেই যকি কিরাত না পড়ে থাকে তাহলে ইমাম আবূ হানীফা ও মুহাম্মদ (র.) এর মতে দুই রাকাআত কাযা করবে। কেননা প্রথম রাকাআতদ্বয়ে কিরাত তরক করার কারণে তাদের মতে তাহরীমা বাতিল হয়ে গেছে। সুতরাং দ্বিতীয় রাকাআতদ্বয় শুরূ করা শূদ্ধ হয়নি। পক্ষান্তরে ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) এর মতে তাহরীমা অব্যাহত আছে। সুতরাং দ্বিতীয় রাকাআতদ্বয় শুরু করা শূদ্ধ হয়েছে। অতঃপর যেহেতু কিরাত তরফ করার কারণে পুরা নামায ফাসিদ হয়ে গেছে, সেহেতু তার মতে চার রাকাআতই কাযা করতে হবে। যদি শূধু প্রথম দুই রাকাআতে কিরাত পড়ে থাকে তাহলে সর্বসম্মতিক্রমে শেষ দুই রাকাআত কাযা করবে। কেননা তাহরীমা বাতিল হয়নি। সুতরাং দ্বিতীয় রাকাআতদ্বয় শুরু করা শূদ্ধ হয়েছে। অতঃপর কিরাত তরক করার কারণে তা ফাসিদ হওয়া প্রথম রাকাআদ্বয়ের ফাসিদ হওয়াকে সাব্যস্ত করে না। যদি শুধু শেষ দুই রাকাআতে কিরাত পড়ে থাকে তাহলে সর্বসম্মতিক্রমে প্রথম দুই রাকাআত কাযা করা ওয়াজিব হবে। কেননা ইমাম আবূ হানীফা ও মুহাম্মদ (র.) এর মতে দ্বিতীয় অংশ করা শুদ্ধ হয়নি। পক্ষান্তরে ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) এর মতে শুরু যেহেতু শূদ্ধ হয়েছে, তেমনি তা আদায়ও হয়েছে। যদি প্রথম দুই রাকাআত এবং দ্বিতীয় রাকাআতদ্বয়ের এক রাকাআতে কিরাত পড়ে থাকে তাহলে সর্বসম্মতিক্রমে শেষ দুই রাকাআত তাকে কাযা করতে হবে। আর যদি শেষ দুই রাকাআতে এবং রাকাআতদ্বয়ের এক রাকাআতে কিরাত পড়ে তাহলে সর্বসম্মতিক্রমে প্রথম দুই রাকাআত কাযা করতে হবে। আর যদি উভয় অংশের এক রাকাআত কাযা করবে। আবূ হানীফা (র.)এর মতও তাই। কেননা তাহরীমা অব্যাহত রয়েছে। মুহাম্মদ (র.) এর মতে প্রথম দুই রাকাআত কাযা করতে হবে। কেননা (প্রথম রাকাআতদ্বয়ের এক রাকাআতে কিরাত তরফ করার কারণে) তার মতে তাহরীমা রহিত হয়ে অস্বীকার করেছেন। (ইমাম মুহাম্মদ (র.) কে সম্বোধন করে) তিনি বলেছেন, আমি তোমাকে আবূ হানীফা (র.) এর পক্ষ হতে এ বর্ণনা শূনিয়েছি যে, তাকে দুই রাকাআত কাযা করতে হবে। কিন্তু ইমাম মুহাম্মদ (র.) ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর পক্ষ হতে তার এ বর্ণনা প্রত্যাহার করেন নি। যদি শুধু প্রথম রাকাআতদ্বয়ের এক রাকাআতে কিরাত পড়ে তাহলে বড় ইমামদ্বয়ের মতে চার রাকা্আত কাযা করবে। আর মুহাম্মদ (র.) এর মতে দুই রাকাআত কাযা করবে। আর দ্বিতীয় এক রাকাআতে কিরাত পড়ে তাহলে আবূ ইউসূফ (র.) এর মতে চার রাকাআত কাযা পড়বে। আর ইমাম আবূ হানীফা ও মুহাম্মদ (র.)এর মতে দুই রাকাআত কাযা করবে।
ইমাম মুহাম্মদ (র.) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা.) এর হাদীছ কোন সালাতের পর অনুরূপ সালাত পড়বে না। এর অর্থ হলো, দুই রাকা্‌আত কিরাতসহ পড়া এবং দুই রাকাআত কিরাত ছাড়া পড়া। সুতরাং এ হাদীছ দ্বারা নফলের সকল রাকাআতে কিরাত ফরজ হওয়া বয়ান করা উদ্দেশ্য। দাড়ানোর সার্মথ্য থাকা সত্ত্বেও বসে নফল পড়তে পারে। কেননা রাসুলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন- বসা অবস্থায় নামাযের সাওয়াব দাড়ানো অবস্থার নামাযের অর্ধেক। তাছাড়া নামায হলো শ্রেষ্ঠ ইবাদত, যা সর্বসময়ে আদায়যোগ্য। অথচ মাঝেমধ্যে দাড়ানো তার জন্য কষ্টকর হতে পারে। তাই কিয়াম তরক করা তার জন্য জাইয হবে যাতে নামায পড়া থেকে (শূধূ এই কারণে) বিরত না হয়। বসার ধরন সম্পর্কে আলিমগণ মতভিন্নতা পোষণ করেন। তবে পসন্দনীয় (ও ফাতওয়া রূপে গৃহীত) মত এই যে, তাশাহুদে যেভাবে বসা হয় সেভাবে বসবে। কেননা এটা নামাযে বসার সুন্নত তরীকা রূপে পরিচিত। যদি দাড়ানো অবস্থায় সালাত শূরু করে তারপর ওযর ছাড়া বসে পড়ে তবে ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর মতে জাইয হবে। এটা হলো সূক্ষ কিয়াস। আর ইমাম আবূ ইউসূফ ও মুহাম্মদ (র.) এর মতে জাইয হবে না। এটা হলো সাধারণ কিয়াস। কেননা আরম্ভ করা মান্নতের সাথে তুলনীয়। ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর যুক্তি এই যে, অবশিষ্ট নামাযে তো সে কিয়াম গ্রহণ করেনি। আর নামাযের যতটুকু অংশ সে আদায় করেছে কিয়াম ছাড়াই তার বিশুদ্ধতা রয়েছে। নযর বা মান্নতের বিষয়টি এর বিপরীত। কেননা স্পষ্ট ভাষায় এই বাধ্যবাধকতা গ্রহণ করেছে। এমন কি যদি কিয়ামের বিষয়টি স্পষ্ট না বলে থাকে তবে কোন কোন মাশায়েখের মতে তার জন্য কিয়াস জরুরী হবে না। যে ব্যক্তি শহরের বাইরে রয়েছে সে তার সাওয়ারির জন্তুর ইশারা করে নফল পড়তে পারে, সওয়ারি যে দিকেই অভিমুখী হোক। কেননা বর্ণিত আছে যে, ইবন উমর (রা.) বলেছেন, রাসূলু্ল্লাহ্ (সা.) কে আমি খায়বার অভিমুখী গাধার পিঠে ইশারা করে নামায পড়তে দেখেছি (মুসলিম)। তাছাড়া নফল বিশেষ কোন ওয়াক্তের সাথে সম্পৃক্ত নয়, এমতাবস্থায় যদি আমরা সওয়ারি হতে নামা এবং কিবলামুখী হওয়া তার জন্য বাধ্যতামুলক করে দেই তবে হয় সে নফল ছেড়ে দেবে অথবা কাফেলা থেকে পিছনে পড়ে যাবে।
পক্ষান্তরে ফরজ নামাযগুলো নির্ধারিত সময়ের সাথে সম্পৃক্ত। নিয়মিত সুন্নত নামাযগুলো নফলের অন্তর্ভূক্ত। তবে ইমাম আবূ হানীফা (র.) হতে বর্ণিত এক রিওয়ায়াত মতে ফজরের সু্ন্নাতের জন্য সওয়ারি হতে নামতে হবে। কেননা এটা অন্যান্য সুন্নতের তুলনায় অধিক গুরুত্বপূর্ণ। শহরে বাইরে হওয়ার শর্ত দ্বারা প্রতিয়মান হয় যে নিয়মিত সফর হওয়া শর্ত নহে। তদ্রুপ শহরের ভিতরে এরুপ আদায় করা জাইয হবে না। আর ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) হতে বর্ণিত এক মতে শহরেও জাইয আছে। জাহিরী রিওয়ায়াতের কারণ এই যে, হাদীছ শহরের বাইরে সম্পর্কেই রয়েছে। আর সওয়ারির প্রয়োজনীয়তা শহরের বাইরেই বেশী। যদি নফল নামায সওয়ার অবস্থায় শূরু করে এরপর সওয়ারি থেকে নেমে যায় তাহলে ‘বিনা’ করবে। আর যদি নামা অবস্থায় এক রাকাআত পড়ে তারপর আরোহণ করে তবে নতুন ভাবে শূরু করবে। কেননা নামতে সক্ষম হওয়ার কারণে আরোহীর তাহরীমা সংগঠিত হয়েছে, রুকু-সাজদার বৈধতা সহকারে। সুতরাং যখন সে নেমে রুকু-সাজদা করবে তখন তা জাইয হবে। পক্ষান্তরে অবতরণকারীর তাহরীমা রুকু সাজদা ওয়াজিবকারী রূপে সংগঠিত হয়েছে। সুতরাং যা তার উপর বাধ্যতামূলক হয়ে গিয়েছে, তা সে বিনা ওযরে তরক করতে পারে না। ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) হতে একটি বর্ণনা আছে যে, সওয়ারি হতে নামলেও নতুন করে শুরু করবে। তদ্রুপ মুহাম্মদ (র.) হতে বর্ণিত আছে যে, এক রাকাআত পড়ার পর অবতরণ করলে নতুন করে শূরু করবে। তবে উপরোক্ত জাহিরী রিওয়ায়াতই হলো অধিকতর বিশুদ্ধ।

Thursday, November 23, 2017

সফর অবস্থায় নামাজ আদায় করার বিধি-বিধান

সফর অবস্থায় নামাজ

সফর অবস্থায় নামাজ আদায় করার বিধি-বিধান :-
যে সফর দ্বারা শরীআতের আহকাম পরিবর্তিত হয়, তা হল তিন দিন তিন রাত্রি পরিমাণ দূরত্বে যাওয়ার ইচ্ছা করা উটের গতি বা হেটে চলার গতি হিসাবে। কেননা, রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন- মুকীম পূর্ণ একদিন একরাত্র মাস্‌হ করবে, আর মুসাফির করবে তিন দিন তিন রাত্র।

যে সফর দ্বারা শরীআতের আহকাম পরিবর্তিত হয়, তা হল তিন দিন তিন রাত্রি পরিমাণ দূরত্বে যাওয়ার ইচ্ছা করা উটের গতি বা হেটে চলার গতি হিসাবে। কেননা, রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন- মুকীম পূর্ণ একদিন একরাত্র মাস্‌হ করবে, আর মুসাফির করবে তিন দিন তিন রাত্র। মাস্‌হ্‌র অবকাশ মুসাফির সম্প্রদায়কে সামগ্রিকভাবে শামিল করেছে। আর তার অনিবার্য প্রয়োজন হবে (সফরের) সময়সীমা সম্প্রসারণ। ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) তা নির্ধারণ করেছেন দুই দিন এবং তৃতীয় দিনের অধিকাংশ সময় পরিমাণ দ্বারা। আর ইমাম শাফিঈ (র.) নির্ধারণ করেছেন একদিন একরাত্র পরিমাণ দ্বারা। আর উভয়ের বিপরীতে প্রমাণ হিসাবে আলোচ্য হাদীছই যথেষ্ট। আর উল্লেখিত পথচলা দ্বারা মধ্যমগতির পথ চলা উদ্দেশ্য। ইমাম আবূ হানীফা (র.) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি মনজীল দ্বারা দূরত্ব নির্ধারণ করেছেন। আর এ মত হল প্রথমোক্ত দূরত্ব পরিমাণের নিকটবর্তী। ফরসখ মাইল দ্বারা দূরত্ব নির্ধারণ গ্রহণযোগ্য নয়। এ-ই বিশুদ্ধ মত। আর নৌপথের চলার গতিকে পরিমাণ হিসাবে গ্রহণ করা হবে না। অর্থাত্ স্থল পথের জন্য নৌপথের যাত্রাকে পরিমাপ হিসাবে গণ্য করা হবে না। আর সমুদ্রে তার উপযোগী যাত্রা পরিমাপ বিবেচ্য, যেমন পার্বত্য পথের হুকুম। ইমাম কুদূরী (র.) বলেন, চার রাকাআত বিশিষ্ট সালাতে মুসাফিরের জন্য ফরজ হল দুই রাকাআত। এর অধিক আদায় করবে না। ইমাম শাফিঈ (র.) বলেন, মুসাফিরের (মূল) ফরজ চার রাকাআত। তবে কসর করা্ হল রুখছত, সাওমের উপর কিয়াস করে।
আমাদের দলীল এই যে, দ্বিতীয়ার্থ দুই রাকাআত কাযা করতে হয় না এবং তা তরক করার কারণে গুণাহ্ হয় না। আর এ হল নফল হওয়ার আলামত। পক্ষান্তরে সাওমের বিষয়টি এর বিপরীত। কেননা তা কাযা করতে হয়। আর যদি চার রাকাআত পড়ে নেয় এবং দ্বিতীয় রাকাআতে তাশাহ্‌হুদ পরিমাণ বৈঠক করে, তাহলে প্রথম দুই রাকাআত ফরজ হিসাবে আদায় হয়ে যাবে এবং শেষ দুই রাকাআত নফল হবে। ফজরের সালাতের উপর কিয়াস করে। অবশ্য সালাম বিলম্ব করার কারণে গুণাহ্‌গার হবে। আর যদি দ্বিতীয় রাকাআতে তাশাহ্‌হুদ পরিমাণ বৈঠক না করে তাহলে সালাত বাতিল হয়ে যাবে। কেননা, ফরযের রুকনসমূহ পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই নফল তার সাথে মিলে গেছে। মুসাফির যখন বস্তির আবাদী ত্যাগ করবে তখন থেকেই দু’রাকাআত আদায় করবে। কেননা, বস্তিতে প্রবেশের সাথে মুকীম হওয়া সম্পৃক্ত। সুতরাং সফরের সম্পর্ক হবে বস্তি থেকে বের হওয়ার সাথে। এ সম্পর্কে আলী (রা.) থেকে নিম্নোক্ত বানী বর্ণিত আছে। যদি আমরা বস্তির গৃহসমূহ অতিক্রম করি তখনই অবশ্য সালাত কসর করব। সফরের হুকুম অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না কোন শহরে বা বস্তিতে পনের দিন বা তার বেশী থাকার নিয়্যত করে। যদি এর কম সময় থাকার নিয়্যত করে তাহলে কসর করবে। কারণ সফরের একটি মিয়াদ নির্ধারণ করা জরুরী। কেননা সফরে স্বভাবতঃ বিরতি ঘটে থাকে। তাই আমরা সফরের মিয়াদ নির্ধারণ করেছি (দুই হায়যের মধ্যবর্তী) তুহরের মিয়াদ দ্বারা। কেননা উভয় মিয়াদই কিছু আহকাম আরোপ করে। আর এটি ইব্‌ন ‘আব্বাস ও ইব্‌ন উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে। আর এ ধরণের ক্ষেত্রে সাহাবীর বাণী হাদীছের মত।
শহর বা বস্তির শর্ত এ দিকে ইংগিত করে যে, মাঠে প্রান্তরে ইকামতের নিয়্যত করা সহীহ্‌ নয়। এ-ই জাহির রিওয়ায়াত। যদি এমন সুদৃঢ় ইচ্ছা নিয়ে কোন শহরে প্রবেশ করে যে, আগামীকাল অথবা পরশু এখান থেকে বের হয়ে যাবে এবং সে মুকীম হওয়ার নির্ধারিত মেয়াদের নিয়্যত করল না; এমন কি এভাবে সে কয়েক বছর অবস্থান করল, তাহলে সে কসর করতে থাকবে। কেননা, ইব্‌ন ‘উমর (রা.) আজারবাইজান শহরে ছয়মাস অবস্থান করেছেন এবং তিনি এ সময় কসর করতে থাকেন। আরও বহু সাহাবায়ে কিরাম থেকেও অনুরূপ বর্ণিত আছে। সৈন্যবাহিনী যখন শত্রু এলাকায় প্রবেশ করে এবং ইকামতের নিয়্যত করে তখন তারা কসরই পড়বে। তদ্রুপ যদি শত্রু দেশের কোন শহর বা দুর্গ অবরোধ করে। কেননা শত্রুভূমিতে প্রবেশকারীর অবস্থা দোদুল্যমান; হয়ত পরাজিত হয়ে স্থান ত্যাগ করবে, নয়ত (শত্রুভূমিকে) পরাস্ত করে তথায় স্থায়ী হবে। সুতরাং তা ইকামাতের স্থান হতে পারে না। অনুরূপভাবে (কসর আদায় করবে) যদি (মুসলিম) বাহিনী দারুল ইসলামের বিদ্রোহীদের শহর বহির্ভূত কোন এলাকায় অবরোধ করে কিংবা সমুদ্রে তাদের অবরোধ করে। কেননা তাদের অবস্থা তাদের নিয়্যতের দৃঢ়তা বাতিল করে।
যুফার (র.) এর মতে উভয় অবস্থায় (ইকামাতের নিয়্যত) গ্রহণযোগ্য হবে, যদি মুসলিম বাহিনীর শক্তিতে প্রাধান্য থাকে। কেননা, সে অবস্থায় বাহ্যতঃ তারা অবস্থান বজায় রাখতে সক্ষম। ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) এর মতে যদি তারা বস্তি এলাকায় থাকে তবে (নিয়্যত) গ্রহণযোগ্য হবে; কেননা বস্তি এলাকা ইকামত করার স্থান। আর তাঁবুবাসীদের সম্পর্কে ইকামতের নিয়্যত কারো কারো মতে দুরস্ত নয়। তবে বিশুদ্ধ মত এই যে, তারা মুকীম বিবেচিত হবে। ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) থেকে তাই বর্ণিত রয়েছে। কেননা ইকামত হলো (মানুষের জীবনের) আসল অবস্থা। সুতরাং এক চারণভূমিতে যাওয়ার কারণে তা বাতিল হবে না্। আর যদি মুসাফির যদি ওয়াক্তিয়া সালাতের ক্ষেত্রে মুকীমের পিছনে ইক্‌তিদা করে তাহলে চার রাকাআত পুরা করবে। কেননা তখন অনুসরণের বাধ্যবাধকতায় তার ফরজ চার রাকাআতে পরিবর্তিত হয়ে যাবে। যেমন তার নিজের ইকামতের নিয়্যত দ্বারা পরিবর্তিত হয়ে যায়। কারণ, পরিবর্তনকারী বিষয় (অর্থাত্ ইকতিদা) ‘সবব’ এর সাথে (অর্থাত্ ওয়াক্‌তের সাথে) যুক্ত হয়েছে। যদি মুকীম ইমামের সঙ্গে কাযা সালাতে শামিল হয়, তবে তা জাইয হবে না। কেননা, ফরজ পরিবর্তিত হয় না ওয়াকতের পর সবব বিলুপ্ত হওয়ার কারণে; যেমন ইকামতের নিয়্যত দ্বারা পরিবর্তিথ হয় না। এমতাবস্থায় এটা বৈঠক ও কিরাতের ক্ষেত্রে নফল আদায়কারীর পিছনে ফরজ আদায়কারীর ইকতিদার মত হয়ে যাবে, যা দুরস্ত নয়।
মুসাফির যদি দুই রাকাআতে মুকীমদের ইমামতি করে তবে সে (দুই রাকাআত শেষে) সালাম ফিরাবে আর মুকীমগণ তাদের সালাত পূর্ণ করে নিবে। কেননা, মুকতাদীরা দুই রাকাআতের ক্ষেত্রে (মুসাফির ইমামের) অনুসরণে বাধ্যবাধকতা গ্রহণ করেছে। সুতরাং অবশিষ্ট সালাতের ক্ষেত্রে তারা মাসবূকের মত একাকী হয়ে পড়বে। তবে বিশুদ্ধ মতে সে কিরাত পড়বে না। কেননা তারা তাহরীমার বেলায় মুকতাদী, অন্যান্য কাজের বেলায় নয়। আর ফরজ (কিরাত) আদায় হয়ে গেছে। সুতরাং সতর্কতা হিসাবে কিরাত তরক করবে। মাসবূকের বিষয়টি এর বিপরীত। কেননা, সে নফল কিরাত পেয়েছে। সুতরাং (কিরাতের) ফরজ বিরতি আদায় হয়নি। সুতরাং (তার ক্ষেত্রে) কিরাত পড়াই উত্তম। সালাম ফিরানোর পর (মুসাফির) ইমামের পক্ষে একথা বলে দেওয়া মুসতাহাব যে, তোমরা তোমাদের সালাত পূর্ণ করে নাও। আমরা মুসাফির কাফেলা। কেননা, মুসাফির অবস্থায় মক্কাবাসীদের ইমামতি করার সময় রাসূলুল্লাহ্ (সা.) এরূপ বলেছিলেন।
মুসাফির যখন আপন শহরে প্রবেশ করবে তখন সালাত পূর্ণ করবে। যদিও সেখানে সে ইকামতের নিয়্যথ না করে। কেননা, রাসূলুল্লাহ্ (সা.) ও সাহাবায়ে কিরাম সফর করতেন। অতঃপর ইকামাতের নতুন নিয়্যত ব্যতীত ওয়াতানের দিকে ফিরে এসে মুকীম হিসাবে অবস্থান করতেন। যদিও কারও নিজস্ব আবাসভূমি থাকে অতঃপর সেখান থেকে স্থানান্তরিত হয়ে অন্য স্থানকে আবাসভূমি রূপে গ্রহণ করে, তবে অতঃপর সফর করে প্রথম আবাসভূমিতে প্রবেশ করে, তবে সে কসর পড়বে। কেননা প্রথমটি তার আবাসভূমি থাকে না। একথা স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, হিজরতের পর রাসূলুল্লাহ্ (সা.) নিজেকে মক্কায় মুসাফির গণ্য করেছিলেন। এর কারণ এই যে, নীতি হল, স্থায়ী আবাসভূমি অনুরূপ আবাসভূমি দ্বারা বাতিল হয়ে যায়, সফর দ্বারা হয় না। পক্ষান্তরে অস্থায়ী অবস্থান স্থল দ্বারা, সফর দ্বারা এবং স্থায়ী আবাসভূমি দ্বারা বাতিল হয়ে যায়। মুসাফির যদি মক্কায় ও মীনায় পনের দিন থাকার নিয়্যত করে তবে সে কসর পড়বে। কেননা দুই স্থানে ইকামতের নিয়্যত যদি এ’ তেবার করা হয়, তাহলে বিভিন্ন জায়গার ইকামতের নিয়্যতকেও মিলিতভাবে গ্রহণ করতে হবে। আর তা নিষিদ্ধ। কেননা, সফর তো বিভিন্ন স্থানে অবস্থান থেকে মুক্ত নয়। তবে যদি উভয়ের মধ্যে একটিতে রাত্রিযাপন করার নিয়্যত করে থাক তবে সে সে স্থানে প্রবেশ করার সাথে সাথে মুকীম হয়ে যাবে। কেননা, লোকের ইকামতের বিষয়টি তার রাত্রি যাপনের স্থানের সাথে সম্পৃক্ত।

নামাজের পর তাকবীরে তাশরীক পাঠ করার বিধান

নামাজের পর তাকবীরে তাশরীক পাঠ করার বিধান :-
আরাফা দিবসের ফজরের সালাতের পর থেকে তাকবীরে তাশরীক শুরু করবে এবং কুরবানী দিবসের আসরের সালাতের পর তা শেষ করবে। এ হল ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর মত। সাহেবাইন বলেন, আইয়ামে তাশরীকের শেষ দিন আসরের সালাতের পর তা শেষ করবে।
আরাফা দিবসের ফজরের সালাতের পর থেকে তাকবীরে তাশরীক শুরু করবে এবং কুরবানী দিবসের আসরের সালাতের পর তা শেষ করবে। এ হল ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর মত। সাহেবাইন বলেন, আইয়ামে তাশরীকের শেষ দিন আসরের সালাতের পর তা শেষ করবে। বিষয়টি সম্পর্কে সাহাবায়ে কিরামের
মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তাই সাহেবাইন আলী (রা.) এর মত গ্রহণ করেছেন, দিবসের সংখ্যাধিক্যের উপর প্রেক্ষিতে। কেননা, ইবাদতের ব্যাপারে এতেই সতর্কতা রয়েছে। পক্ষান্তরে ইমাম আবূ হানীফা (র.) নিম্নতর সংখ্যার উপর আমল করার উদ্দেশ্যে আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা.)
এর মত গ্রহণ করেছেন। কেননা উচ্চৈস্বরে তাকবীর বলার মধ্যে নতুনত্ব রয়েছে (তাই নিশ্চিতের উপর আমল করা শ্রেয়ঃ)।
আর তাকবীর হল একবার বলবেঃ কেননা ইবরাহীম খলীলুল্লাহ্‌ আলায়হিস সালাম থেকে এরূপই বর্ণিত রয়েছে। আর এইটি ফরজ সালাতসমূহের পর ওয়াজিব। ইমাম আবূ হানীফার মতে শহরে মুস্তাহাব জামা’আতে সালাত আদায়কারী মুকীমদের উপর। সুতরাং স্ত্রী লোকদের জামা’আতের ক্ষেত্রে
যেখানে কোন পুরুষ নেই, এবং মুসাফিরদের জামা’আতের বেলায় যাদের সঙ্গে কোন মুকীম নেই, সেখানে তা ওয়াজিব হবে না। সাহেবাইন বলেন, তা ওয়াজিব ফরজ সালাত আদায়কারী প্রত্যেকের উপর। কেননা এ তাকবীর ফরজ সালাতের অনুগামী । ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর দলীল হল ইতোপূর্বে
আমাদের বর্ণিত হাদীছ। তাশরীক অর্থ উচ্চৈস্বরে তাকবীর বলা। খলীল ইব্‌ন আহমদ থেকে এটি বর্ণিত। তাছাড়া উচ্চৈস্বরে তাকবীর বলা সুন্নতের খিলাফ।
আর শরীআতে এর প্রমাণ পাওয়া যায় উপরোক্ত শর্তসমূহ একত্র হওয়ার বেলায়। অবশ্য স্ত্রী লোকেরা পুরুষের পিছনে ইকতিদা করলে এবং মুসাফিরগণ মুকীমের পিছনে ইকতিদা করলে অনুগামী হিসেবে তাদের উপরও (তাকবীরে তাশরীক) ওয়াজিব হবে। ইমাম (আবূ ইউসূফ) ইয়া’কূব( র.)
বলেন, আরাফা দিবসে মাগরিবের সালাতে আমি ইমামতি করলাম এবং তাকবীর বলতে ভুলে গেলাম। তখন ইমাম আবূ হানীফা (র.) তাকবীর বললেন। এতে প্রমাণিত হয় যে, ইমাম তাকবীর তরক করলেও মুক্তাদী তা তরক করবে না। কেননা এটা সালাতের তাহরীমার মধ্যে আদায় করা হয় না। সুতরাং
তাতে ইমাম অপরিহার্য নন। বর‌ং ইমামের অনুরণ মুস্তাহাব মাত্র।

Wednesday, November 22, 2017

সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণের সময় নামাজ আদায় করার বিধি-বিধান

সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণ

সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণের নামাজ আদায় করার বিধি-বিধান :-

ইমাম কুদূরী (র.) বলেন, যখন সূর্যগ্রহণ হবে তখন ইমাম নফলের অনুরূপ দু’রাকাআত সালাত আদায় করবেন। প্রতি রাকাআতে একটি রুকই হবে। ইমাম শাফিঈ (র.) বলেন, (প্রতি রাকাআতে) দু’টি রুকু হবে। তার দলীল হল ‘আইশা (রা.) বর্ণিত হাদীছ।

ইমাম কুদূরী (র.) বলেন, যখন সূর্যগ্রহণ হবে তখন ইমাম নফলের অনুরূপ দু’রাকাআত সালাত আদায় করবেন। প্রতি রাকাআতে একটি রুকই হবে। ইমাম শাফিঈ (র.) বলেন, (প্রতি রাকাআতে) দু’টি রুকু হবে। তার দলীল হল ‘আইশা (রা.) বর্ণিত হাদীছ। আমাদের দলীল হল ইব্‌ন উমার
(রা.) বর্ণিত হাদীছ। আর যেহেতু (ইমামের সংগে ) নৈকট্যের কারণে বিষয়টি পুরুষদের কাছেই অধিকতর প্রকাশিত সেহেতু ইব্‌ন উমর (রা.) বর্ণিত রিওয়ায়াতই অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য। উভয় রাকাআতে (ইমাম) কিরাত দীর্ঘ করবেন। ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর মতে (ইমাম)
নীরবে কিরাত পড়বেন। আর সাহেবাইনের মতে উচ্চৈস্বরে পড়বেন। ইমাম মুহাম্মদ (র.) এর থেকে ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর অনুরূপ মতও বর্ণিত হয়েছে। কিরাত দীর্ঘ করার বক্তব্যটি উত্তম হিসাবে গণ্য। সুতরাং ইচ্ছা করলে ইমাম কিরাত সংক্ষিপ্ত করতে পারেন। কেননা,
সুন্নাত হল গ্রহণের সময়টিকে সালাত ও দু’আ দ্বারা পরিপূর্ণ করা। সুতরাং একটিকে সংক্ষিপ্ত করলে অন্যটিকে দীর্ঘ করবে। নীরবে এবং উচ্চৈস্বরে কিরাত পড়ার ব্যাপারে সাহেবাইনের দলীল হল ‘আইশা (রা.) বর্ণিত হাদীছ যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা.) তাতে উচ্চৈস্বরে
কিরাত পড়েছেন।
ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর দলীল হল ইব্‌ন ‘আব্বাস ও সমুরাহ ইব্‌ন জুন্দুর (রা.) এর রিওয়ায়াত। আর অগ্রাধিকারের প্রদানের কারণ পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আর কেন হবে না? এটা তো দিনের সালাত, আর দিনের সালাত হল নিশব্দ। সালাতের পর সূর্য গ্রহণ মুক্ত হওয়া পর্যন্ত
দু’আ করবে। কেননা রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- যখন তোমরা এ ধরনের ভয়াবহ কোন অবস্থা দেখতে পাবে, তখন তোমরা দু’আর মাধ্যেমে আল্লাহর অভিমুখী হবে। আর দু’আসমূহের ক্ষেত্রে নিয়ম হল তা সালাতের পরে হওয়া। যে ইমাম জুমুআর সালাত পড়ান, তিনিই সালাতুল কুসুফ
পড়াবেন। তিনি উপস্থিত না হলে লোকেরা একা একা সালাত আদায় করবে। (ইমামতির জন্য কে অগ্রবর্তী হবে, এই) ফিতনা হতে বাচার জন্য। চন্দ্র গ্রহণের ক্ষেত্রে জামা’আত নেই। কেননা রাত্রিকালে সমবেত হওয়া কষ্টকর। কিংবা সংকট সৃষ্টির আশংকা রয়েছে। আর প্রত্যেকে
একা একা সালাত আদায় করবে।কেননা রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন- যখন তোমরা এই ধরনের ভয়ংকর কিছু দেখতে পাবে, তখন তোমরা সালাতের আশ্রয় গ্রহণ করবে। সূর্য গ্রহণের সালাত (জুমু’আর মত ) কোন খুতবা নেই। কেননা তা হাদীছে বর্ণিত হয়নি।

একনজরে নামাজে কিরাত-সুরা পাঠের বিধি-বিধান

নামাজে কিরাত-সুরা

একনজরে নামাজে কিরাত-সুরা পাঠের বিধি-বিধান :-
ইমাম হলে ফজরে এবং মাগরিবে ও ঈশার প্রথম দুই রাকাআতে উচ্চৈস্বরে কিরাত পড়বে এবং শেষ দুই রাকাআতে অনুচ্চৈস্বরে পড়বে। এটাই পরস্পরায় চলে এসেছে। আর যদি মু্নফারিদ হয় তা হলে সে ইচ্ছাধীন। চাইলে সে উচ্চৈস্বরে পাঠ করবে এবং নিজকে শোনাবে। কেননা নিজের ব্যাপারে
সে নিজের ইমাম। আর চাইলে চুপে চুপে পাঠ করবে।
ইমাম হলে ফজরে এবং মাগরিবে ও ঈশার প্রথম দুই রাকাআতে উচ্চৈস্বরে কিরাত পড়বে এবং শেষ দুই রাকাআতে অনুচ্চৈস্বরে পড়বে। এটাই পরস্পরায় চলে এসেছে। আর যদি মু্নফারিদ হয় তা হলে সে ইচ্ছাধীন। চাইলে সে উচ্চৈস্বরে পাঠ করবে এবং নিজকে শোনাবে। কেননা নিজের ব্যাপারে
সে নিজের ইমাম। আর চাইলে চুপে চুপে পাঠ করবে। কেননা, তার পিছনে এমন কেউ নেই, যাকে সে শোনাবে। তবে উচ্চৈস্বরে পাঠ করাই উত্তম। যাতে জামা’আতের অনুরূপ আদায় হয়। যুহর ও আসরে ইমাম কিরাত চুপে চুপে পড়বে। এমন কি আরাফাতে হলেও। কেননা, রাসূলুল্লাহ্ (সা.)
বলেছেন- দিবসের সালাত নির্বাক। অর্থাত্ তাতে শ্রুত কিরাত নেই। আরাফা সম্পর্কে ইমাম মালিক (র.) এর ভিন্নমত রয়েছে। আর আমাদের বর্ণিত হাদীছটি তার বিপক্ষে দলীল। আর জুমুআ ও দই ঈদে উচ্চৈস্বরে পাঠ করবে। কেননা উচ্চৈস্বরে পাঠের বর্ণনা মশহূর ভাবে চলে
এসেছে। দিবসে নফল সালাত চুপে চুপে পাঠ করবে। আর ফরজ সালাতের উপর কিয়াস করে রাত্রের সালাতে মুনাফারিদের ইখতিয়ার রয়েছে। কেননা, নফল সালাত হলো ফরযের সম্পূরক। সুতরাং (কিরাআতের বেলায়) নফল ফরযের অনুরূপ হবে।
যে ব্যক্তির ঈশার সালাত ফউত হয়ে যায় এবং সূর্যোদয়ের পর তা পড়ে, সে যদি উক্ত সালাতে ইমামতি করে তাহলে উচ্চস্বরে কিরাত পড়বে। এর সকালে জামা’আতের সাথে ফজরের সালাত কাযা করার সময় রাসূলুল্লাহ্ (সা.) যেমন করেছিলেন। আর যদি সে একা সালাত পড়ে, তাহলে অবশ্যই
নীরবে কিরাত পড়বে। (উভয় রকম পড়ার) ইখতিয়ার থাকবে না। এটাই বিশুদ্ধ মত। কেননা উচ্চৈস্বরে কিরাত সম্পৃক্ত রয়েছে জামা’আতের সাথে অবশ্যম্ভাবীরূপে, কিংবা সময়ের সাথে স্বেচ্ছামূলকভাবে মুনাফারিদের ক্ষেত্রে। অথচ এখানে দু’টোর কোনটাই পাওয়া যায় নি। যে
ব্যক্তি ঈশার প্রথম দুই রাকা’আতে সূরা পাঠ করল কিন্তু সূরাতুল ফাতিহা পাঠ করেনি, সে শেষ দুই রাকাআতে তা দোহরাবে না। পক্ষান্তরে যদি সূরাতুল ফাতিহা পড়ে থাকে কিন্তু তার সাথে অন্য সূরা যোগ না করে থাকে, তাহলে শেষ দুই রাকাআতে ফাতিহা ও সূরা দুটোই
পড়বে এবং উচ্চৈস্বরে পড়বে। এটা ইমাম আবূ হানীফা ও মুহাম্মদ (র.)এর মত। তবে ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) বলেন, দুটোর মধ্যে কোনটাই কাযা করবে না। কেননা ওয়াজিব যখন নিজ সময় থেকে ফউত হয়ে যায়, তখন পরবর্তীতে বিনা দলীলে সেটাকে কাযা করা যায় না।
উল্লেখিত ইমামদ্বয়ের পক্ষে দলীল – যা উভয় অবস্থার পার্থক্যের সাথে সম্পৃক্ত যে, সূরাতুল ফাতিহাকে শরীআতে এমন অবস্থায় নির্দিষ্ট করা হয়েছে যে, তার পরে সূরা সংযুক্ত হবে। সুতরাং যদি ফাতিহাকে শেষ দুই রাকাআতে কাযা করা হয় তাহলে তরতীবের দিক থেকে সূরার
পর সূরাতুল ফাতিহা এসে যাবে। অর্থাত্ এটা নির্ধারিত অবস্থানের বিপরীত। আর (প্রথম দুই রাকাআতে) সূরা ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি ভিন্ন। কেননা তা শরীআত নির্ধারিতরূপে কাযা করা সম্ভব।
উল্লেখ্য যে, এখানকার পাঠে শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে (কাযা করা) ওয়াজিব হওয়া বুঝায়। আর মূল গ্রন্থের উল্লেখিত শব্দে মুস্তাহাব হওয়া বুঝায়। কেননা সূরার কাযা যদিও ফাতিহার পরে হচ্ছে তবু এ সূরা নিজ ফাতিহার সাথে সংযুক্ত হচ্ছে না। সুতরাং নির্ধারিত
অবস্থান সর্বাংশে বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। আর উভয়টিতে উচ্চৈস্বরে পাঠ করবে। এটাই বিশুদ্ধ মত। কেননা একই রাকাআতে সরব ও নীরব পাঠ একত্র করা মানায় না। আর নফল তথা ফাতিহার মধ্যে পরিবর্তন আনা উত্তম। অনুচ্চৈস্বরে পাঠ হল যেন নিজে শোনতে পায়। আর উচ্চৈস্বরের
পাঠ হল অপরে শোনতে পায়। এ হল ফকীহ্ আবূ জা’ফর হিন্দওয়ানীর মত। কেননা, আওয়াজ ব্যতীত শুধু জিহবা সণ্চালনকে কিরাত বলা হয় না। ইমাম কারখী (র.) এর মতে উচ্চৈস্বরের সর্বনিম্ন পরিমাণ হলো নিজেকে শোনানো আর অনুচ্চৈস্বরের পরিমাণ হলো হরফের বিশুদ্ধ উচ্চারণ।
কেননা, কিরাত বা পাঠ মুখের কাজ, কানের কাজ নয়। কুদূরী গ্রন্থের শব্দে এর প্রতি ইংগিত রয়েছে।
তালাক প্রদান, আযাদ করা, ব্যতিক্রম যোগ করা ইত্যাদি শব্দ উচ্চারণমূলক যাবতীয় মাসআলার মধ্যে মতপার্থক্যের ভিত্তি হল উক্ত নীতির পার্থক্যের উপর। সালাতে যে পরিমাণ কিরাত যথেষ্ট হয়, তার সর্বনিম্ন পরিমাণ হলো ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর মতে এক আয়াত আর ইমাম
আবূ ইউসূফ ও মুহাম্মদ (র.) এর মতে ছোট তিন আয়াত অথবা দীর্ঘ এক আয়াত। কেননা, এর চেয়ে কম পরিমাণ হলে তাকে কারী বলা হয় না। সুতরাং তা এক আয়াতের কম পাঠ করার সমতূল্য। ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর দলীল হলো, আল্লাহ তা’আলার বাণী- কুরআনের যতটুকু পরিমাণ সহজ
হয়, তা তোমরা পড়ো। এখানে (এক আয়াতে বা তার অধিকের মাঝে) কোন পার্থক্য করা হয়নি। তবে এক আয়াতের কম পরিমাণ (সর্বসম্মতিক্রমেই কুরআন গণ্য হওয়ার হুকুমের) বহির্ভূত। আর পূর্ণ আয়াত আয়াতের অংশবিশেষের সমার্থক নয়। আর সফরের সূরা ফাতিহার সাথে অন্য যে কোন
সূরা ইচ্ছা হয় পড়বে। কেননা বর্ণিত আছে যে, নবী (সা.) তার সফরে ফজরের সালাতে ফালাক ও নাস সূরাদ্বয় পাঠ করেছিলেন। তাছাড়া সালাতের অর্ধেক রহিত করার ক্ষেত্রে সফরের প্রভাব রয়েছে। সুতরাং কিরাত হ্রাস করণের ব্যাপারে তার প্রভাব থাকা স্বাভাবিক।এ হুকুম
তখন, যখন সফরে তাড়াহুড়া থাকে। পক্ষান্তরে যদি (মুসাফির) স্থিতি ও শান্তির পরিবেশ থাকে, তাহলে ফজরের সালাতে সূরা বুরূজ ও ইনশাক্কা পরিমাণ সূরা পাঠ করবে। কেননা, এভাবে তাখফীক সহকারে সুন্নাতের উপরও আমল সম্ভব হয়ে যাবে।
মুকীম অবস্থায় ফজরের উভয় রাকাআতে সূরাতূল ফাতিহা ছাড়া চল্লিশ বা পণ্চাশ আয়াত পড়বে। চল্লিশ থেকে ষাট এবং ষাট থেকে একশ’ আয়াত পাঠ করার কথাও বর্ণিত রয়েছে। আর এ সব সংখ্যার সমর্থনে হাদীছ এসেছে। বর্ণনাগুলোর মাঝে সামঞ্জস্য বিধান এভাবে হতে পারে যে, (কিরাত
শ্রবণে) আগ্রহীদের ক্ষেত্র্রে একশ’ আয়াত এবং অলসদের ক্ষেত্রে চল্লিশ আয়াত এবং মধ্যমদের ক্ষেত্রে পণ্চাশ থেকে ষাট আয়াত পাঠ করবে। কারো কারো মতে রাত্র ছোট বড় হওয়া এবং কর্মব্যস্ততা কম-বেশী হওয়ার অবস্থা বিবেচনা করা হবে। ইমাম কুদূরী বলেন, যুহরের
নামাযেও অনুরূপ পরিমাণ পাঠ করবে। কেননা সময়ের প্রশস্ততার দিক দিয়ে উভয় সালাত সমান। মবসূত গ্রন্থে বলা হয়েছে- ‘কিংবা তার চেয়ে কম’। কেননা তা কর্মব্যস্ততার সময়। সুতরাং অনীহা এড়ানোর পরিপ্রেক্ষিতে ফজর থেকে কমানো হবে। আসর ও ‘ঈশা একই রকম। দু’টোতেই
আওসাতে মুফাসসাল পাঠ করবে। আর মাগরিবে তার চেয়ে কম অর্থাত্ তাতে ‘কিসারে মুফাসসাল’ পাঠ করবে। এ বিষয়ে মূল দলীল হলো আবূ মূসা আশ’আরী (রা.) এর নামে প্রেরিত উমর ইবন খাত্তাব (রা.) এর এই মর্মে লিখিত পত্র যে, ফজরে ও যুহরে ‘তিওয়ালে মুফাসসাল’ পড়ো।
তাছাড়া মাগরিবের ভিত্তিই হলো দ্রুততার উপর। সুতরাং হালকা কিরাতই তার জন্য অধিকতর উপযোগী। আর আসর ও ‘ঈশায় মুস্তাহাব হলো বিলম্বে পড়া। আর কিরাত দীর্ঘ করলে সালাত দু’টি মুস্তাহাব ওয়াক্ত অতিক্রম করার আশংকা রয়েছে। সুতরাং এ দুই সালাতে আওসাতে মুফাসসাল
নির্ধারণ করা হয়। ফজরে প্রথম রাকাআতকে দ্বিতীয় রাকাআতের তুলনায় দীর্ঘ করবে, যাতে লোকদের জামা’আত ধরার ব্যাপারে সহায়ক হয়। ইমাম কুদূরী বলেন, যুহরের উভয় রাকাআত সমান। তা ইমাম আবূ হানীফা ও আবূ ইউসূফ (র.) এর মত। আর ইমাম মুহাম্মদ (র.) বলেন, সব সালাতেই
প্রথম রাকাআতকে অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ করা আমার কাছে পসন্দনীয়। কেননা, বর্ণিত আছে যে, নবী (সা.) সব সালাতেই প্রথম রাকাআতকে অন্য রাকাআতের তুলনায় দীর্ঘ করতেন। প্রথমোক্ত ইমামদ্বয়ের দলীল এই যে, উভয় রাকাআতই কিরাতের সমান হকদার। সুতরাং পরিমাণের ক্ষেত্রেও
উভয় রাকাআত সমান হতে হবে। তবে ফজরের সালাত এর বিপরীত। কেননা, তা ঘুম ও গাফলাতের সময়। আর উদ্ধৃত হাদীছটি সানা, আউযুবিল্লাহ্ ও বিসমিল্লাহ্ পড়ার প্রেক্ষিতে দীর্ঘ হওয়ার সাথে সম্পৃক্ত। আর কম, বেশীর ক্ষেত্রে তিন আয়াতের কম ধর্তব্য নয়। কেননা অনায়াসে
এতটুকু কম-বেশী থেকে বেঁচে থাকা সম্ভবপর নয়। আর কোন সালাতের সহিত এমন কোন সূরা নির্দিষ্ট নেই যে, এটি ছাড়া সালাত জাইয হবে না। কেননা, আমরা পূর্বে যে আয়াত পেশ করেছি, তা নিঃশর্ত। বরং কোন সালাতের জন্য কুরআনের কোন অংশকে নির্ধারণ করে নেওয়া মাকরূহ।
কেননা, তাতে অবশিষ্ট কুরআনকে বর্জন করা হয় এবং বিশেষ সূরার ফযীলতের ধারণা জন্মে। মুক্তাদী ইমামের পিছনে কিরাত পাঠ করবে না। সূরাতুল ফাতিহার ব্যাপারে ইমাম শাফিই (র.) এর ভিন্নমত রয়েছে। তার দলীল এই যে, কিরাত হলো সালাতের অন্যন্য রুকনের মত একটি
রুকন। সুতরাং তা পালনে ইমাম ও মুক্তাদী উভয়ে শরীক থাকবেন।
আমাদের দলীল হলো রাসূলুল্লাহ্ (সা.) এর বাণী- যে ব্যক্তির ইমাম রয়েছে, সেক্ষেত্রে ইমামের কিরাত তার কিরাত রূপে গণ্য। এবং এর উপরই সাহাবীদের ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর কিরাত হলো উভয়ের মাঝে শরীকানামূলক রুকন। তবে মুক্তাদীর অংশ হলো নীরব থাকা ও মনোযোগসহ
শ্রবণ। রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন- (ইমাম) যখন কুরআন পাঠ করেন তখন তোমরা খামুশ থাকো। তবে ইমাম মুহাম্মদ (র.) থেকে বর্ণিত আছে যে, সতর্কতা অবলম্বন হিসাবে পাঠ করাই উত্তম। কিন্তু ইমাম আবূ হানীফা ও আবূ ইউসূফ (র.) এর মতে তা মাকরূহ। কেননা এ সম্পর্কে
হুশিয়ারি রয়েছে। আর মনোযোগ সহকারে শুনবে এবং নীরবে থাকবে। যদিও ইমাম আশা ও ভয়ের আয়াত পাঠ করেন। কেননা, নীরবে শ্রবণ ও নীরবতা আয়াত দ্বারা ফরজ সাব্যস্ত হয়েছে। আর নিজে পাঠ করা, কিংবা জান্নাত প্রার্থনা করা এবং জাহান্নাম থেকে পানাহ চাওয়া এ সকল এতে
বাধা সৃষ্টি করে। খুতবার হুকুমও অনুরূপ। তেমনি হুকুম নবী (সা.) এর উপর দুরূদ পাঠ করার সময়ও। কেননা, মনোযোগ সহকারে খুতবা শ্রবণ করা ফরজ। তবে যদি খতীব এ আয়াত পড়েন- তখন শ্রোতা মনে মনে দুরূদ পড়বে। অবশ্য মিম্বর থেকে দূরের লোকদের সম্পর্কে আলিমগণের
মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবে নীরব থাকার মধ্যে ইহতিয়াত রয়েছে, যাতে (কমপক্ষে) খামুশ থাকার ফরজ পালিত হয়। সঠিক বিষয় আল্লাহই উত্তম জানেন।

ইসলামের দৃষ্টিতে চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করার বিধি-বিধান

চেয়ারে বসে নামাজ আদায়

ইসলামের দৃষ্টিতে চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করার বিধি-বিধান :
---
বর্তমানে প্রায় সব মসজিদেই অনেক মুসল্লিকে চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করতে দেখা যায়। কিন্তু শরিয়তের বিধান অনুযায়ী চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করাটা সঠিক হচ্ছে কিনা সেটা তাদের অনেকেই জানেন না। অনেকের উজর-সমস্যা এতই মামুলি যে, এ ধরনের সমস্যার কারণে চেয়ারে
বসে নামাজ আদায় করাটা বৈধ হয় না, ফলে তারা যখন চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করেন তখন তা সহি হয় না। একটু কষ্ট করে চেয়ার ছাড়াই তারা নামাজ আদায় করতে পারেন কিন্তু তারা সেটা না করে বরং চেয়ারে বসেই নামাজ আদায় করে যাচ্ছেন। আর নামাজ আদায় করা সত্ত্বেও নামাজ
সহি না হওয়ার কারণে তারা গোনাহগার হচ্ছেন। এজন্য এ সংক্রান্ত মাসআলা-মাসাইল বিজ্ঞ মুফতিদের সঙ্গে কথা বলে জেনে নেয়া একান্ত জরুরি। যাতে ইসলামের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত নামাজ সহি-শুদ্ধ হয়। বক্ষমান নিবন্ধে সংক্ষেপে বিষয়টি আলোচনা করার প্রয়াস
পাব।
* কিয়াম তথা দাঁড়ানো নামাজের একটি ফরজ। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে তোমরা নামাজের প্রতি যত্নবান হবে। বিশেষত মধ্যবর্তী নামাজের প্রতি এবং আল্লাহর উদ্দেশে তোমরা বিনীতভাবে দাঁড়াবে। (বাকারা : ২৩৮)।
এ আয়াতে নামাজে দাঁড়ানোর কথা বলা হয়েছে। (বাদায়েউস সানায়ে ১/২৮৭)। দাঁড়াতে সক্ষম হলে ফরজ, ওয়াজিব ও ফজরের সুন্নাত নামাজ দাঁড়িয়েই আদায় করতে হবে। এসব নামাজ বসে আদায় করলে সহি হবে না। (শামী ২/৫৬৫)। নফল নামাজ দাঁড়াতে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও বসে আদায়
করা জায়েজ। (শামী বৈরোত, ২/৫৬৫)। তবে তাতে দাঁড়ানোর তুলনায় অর্ধেক সওয়াব হয়। বিষয়টি একটি হাদিসে সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। হজরত ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূল (সা.) কে বসে নামাজ আদায় করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। রাসূল
(সা.) বললেন, কেউ যদি দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করে তাহলে তা তার জন্য উত্তম। আর বসে নামাজ আদায় করলে সে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করার অর্ধেক সওয়াব পাবে। (বুখারি ১/১৫০ তিরমিযী ১/৮৫)। এ হাদিসটি নফল নামাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কারণ দাঁড়াতে সক্ষম হলে ফরজ
ওয়াজিব নামাজ বসে আদায় করা জায়েজ নয়। ইমাম তিরমিযী জামি তিরমিযীতে হাদিসটি উল্লেখ করার পর লিখেন, কতক আলেম এ হাদিসটির মর্ম সম্পর্কে বলেছেন, এটি নফলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। হাসান বসরি থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, কেউ ইচ্ছা করলে দাঁড়িয়ে বসে শুয়ে নফল
নামাজ আদায় করতে পারবে। ‘বসে নামাজ আদায় করলে দাঁড়িয়ে আদায় করার তুলনায় অর্ধেক সওয়াব হবে’ এ হাদিসটির ব্যাখ্যায় সুফিয়ান সাওরি বলেন, যে ব্যক্তি সুস্থ, যার কোনো উজর-সমস্যা নেই এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে হাদিসটি প্রযোজ্য। অর্থাৎ নফল নামাজের ক্ষেত্রে
কেউ কোনো অসুস্থতা বা উজরের কারণে বসে নামাজ আদায় করলে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায়ের সমান সওয়াবই পাবে। সুফিয়ান সাওরির এ বক্তব্যের মতো বক্তব্য কিছু হাদিসেও পাওয়া যায়। (তিরমিযী ১/৮৫)। হজরত হাফসা (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) এর ইন্তিকালের এক বছর আগ পর্যন্ত
আমি তাকে নফল নামাজ বসে আদায় করতে দেখিনি। ওফাতের এক বছর আগে তিনি (মাঝে মাঝে) নফল নামাজ বসে আদায় করতেন। সূরা পড়তেন স্পষ্ট করে। ধীরে ধীরে। কেরাত হতো দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর। (তিরমিযী ১/৮৫)। দাঁড়াতে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও নফল নামাজ বসে পড়লে জমিনে
বসেই পড়তে হবে। চেয়ারে বসে পড়লে নামাজ সহি হবে না। জমিনে বসে হাঁটু বরাবর মাথা ঝুঁকিয়ে রুকু করতে হবে। সিজদা করতে সক্ষম হলে জমিনেই সিজদা করতে হবে। (খানিয়া ১/১৭১)।
যিনি দাঁড়াতে সক্ষম কিন্তু নিয়ম মতো রুকু সিজদা করতে অক্ষম, রুকু সিজদা করতে মারাত্মক কষ্ট হয় বা রোগ বেড়ে যায় অথবা রোগ সারতে বিলম্ব হবে এ ধরনের লোক দাঁড়িয়ে ইশারায় রুকু সিজদা করে নামাজ আদায় করবেন। জমিনে বা চেয়ারে বসে নামজ আদায় করলে নামাজ সহি
হবে না। কারণ, নামজে কিয়াম বা দাঁড়ানো একটি ফরজ, অপারগতা ছাড়া তা বাদ দিলে নামজ সহি হবে না। (বদায়েউস সানায়ে ১/১০৭, মাজমাউল আনহুর ১/২২৯, তাবইনুল হাকায়েক ১/৪৯২)।
* কেউ যদি কোনো কিছুর ওপর ভর করে, হেলান দিয়ে টেক লাগিয়ে দাঁড়াতে পারেন সোজা দাঁড়াতে পারেন না তাহলে তিনি কিছুর ওপর ভর করে ঠেক লাগিয়ে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করবেন। জমিনে বা চেয়ারে বসে ফরজ ওয়াজিব ও ফজরের সুন্নাত নামজ আদায় করলে সহি হবে না। (ফাতহুল
কাদির ২/৩, শামী বৈরোত ২/৫৬৭)।
* যিনি কিছুক্ষণ দাঁড়াতে পারেন বেশি সময় দাঁড়াতে পারেন না। তিনি দাঁড়িয়ে নামাজ শুরু করবেন। যতক্ষণ সম্ভব দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করবেন। যখন কষ্ট হবে জমিনে বসে বাকি নামাজ আদায় করবেন। রুকু সিজদা নিয়ম মতো করবেন। এমতাবস্থায় চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করলে
নামাজ সহি হবে না। যেমন একজন মানুষ দীর্ঘ সময় দাঁড়াতে পারে না, ফজরের নামাজে দীর্ঘ কেরাত পড়া হয় তিনি যদি জামাতে ফজরের নামাজ আদায় করেন তাহলে দাঁড়িয়ে শুরু করবেন যতক্ষণ সম্ভব দাঁড়াবেন। যখন কষ্ট হবে, জমিনে বসে পড়বে। চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করতে
পারবেন না। ( ফতাহুল কাদির ২/৩। শামী বৈরোত ২/৫৬৭।
* যারা দাঁড়াতে এবং রুকু সিজদা করতে অক্ষম, তারা জমিনে যেভাবে বসতে সক্ষম সেভাবে বসেই নামাজ আদায় করবেন। চেয়ারে বসে আদায় করলে নামজ সহি হবে না। জমিনে বসে ইশারায় রুকু সিজদা করতে হবে। হাঁটু বরাবর মথা ঝুঁকিয়ে ইশারায় রুকু এবং আরেকটু বেশি ঝুঁকিয়ে
সিজদা করতে হবে। (বদায়েউস সানায়ে ১/২৮৪)। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে যারা দাঁড়িয়ে বসে এবং শুয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করে এবং বলে হে আমাদের প্রতিপালক তুমি এটা অনর্থক সৃষ্টি করোনি। তুমি পবিত্র,
আমাদের জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা কর। (আলইমরান, ১৯১)। কুরতুবি বলেন, হাসান বসরিসহ আরও কয়েকজন মুফাসসির বলেছেন, আয়াতটি নামাজ সম্পর্কে অর্থাৎ (বুদ্ধিমান তারা) যারা নামাজ নষ্ট করে না। উজর হলে বসে বা শুয়ে হলেও নামাজ আদায় করে। সুতরাং আয়াত
থেকে জানা গেল, নামাজ দাঁড়িয়ে আদায় করতে হবে। দাঁড়াতে সক্ষম না হলে বসে এবং তাও সম্ভব না হলে শুয়ে নামাজ আদায় করতে হবে। (তাফসিরে কুরতুবি ৪/১৯৮)। মাবসূতে সারাখসিতে রয়েছে, অসুস্থ ব্যক্তির নামাজের ব্যাপারে মূলনীতি হচ্ছে এ আয়াত- ‘যারা দাঁড়িয়ে
বসে এবং শুয়ে আল্লাহর স্মরণ করে’ (আল ইমরান ১৯১)। এ আয়াতের তাফসির প্রসঙ্গে যাহহাক বলেন, আয়াতটি হচ্ছে, অসুস্থ ব্যক্তির সামর্থ্য অনুযায়ী নামাজ আদায়ের বিবরণ। (মাবসূতে সারাখসি ১/২১২)। অপর একটি আয়াতে রয়েছে, ‘দাঁড়িয়ে বসে এবং শুয়ে আল্লাহকে স্মরণ
করবে। (নিসা : ১০৩)। এ আয়াতে আল্লাহকে স্মরণ করার যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে তার দ্বারা উদ্দেশ্য নামাজ। অর্থাৎ তোমরা নামাজ আদায় কর। (বাদায়ে ১/২৮৪)। একটি হাদিসে বিষয়টির সুস্পষ্ট বর্ণনা পাওয়া যায়। হজরত ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) বলেন, রাসূল (সা.)
কে অসুস্থ ব্যক্তির নামাজ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি বললেন, দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করবে। তা সম্ভব নাহলে বসে আদায় করবে। তাও সম্ভব না হলে শুয়ে নামাজ আদায় করবে। (বুখারি ১/১৫০, তিরমিযী, ১/৮৫, ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমদ)। এ হাদিস দ্বারা সুস্পষ্ট
বুঝে আসে, দাঁড়ানো সম্ভব না হলে তখনই কেবল বসে নামাজ আদায় করা যাবে। যতক্ষণ পর্যন্ত দাঁড়ানো সম্ভব ততক্ষণ জমিনে বা চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করলে সহি হবে না। উজরের কারণে হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজে ফরজ নামাজও বসে আদায় করেছেন। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে
বর্ণিত। তিনি বলেন, যে অসুস্থতায় রাসূলে (সা.) ইন্তেকাল করেন সে অসুস্থতার সময় তিনি আবু বকর (রা.) এর পেছনে বসে নামাজ আদায় করেছেন। (মুসলিম, ১/১৭৭, তিরমিযী ১/৮৩)।
* যিনি জমিনে স্বাভাবিকভাবে বসতে পারেন না কিছুর সঙ্গে ঠেক লাগিয়ে বসতে পারেন তিনি কোনো কিছুর সঙ্গে ঠেক লাগিয়ে জমিনে বসেই নামাজ আদায় করবেন। যেমন মসজিদের পিলার, দেয়াল, ফ্লাটচেয়ার বালিশ ইত্যাদির সঙ্গে ঠেক লাগিয়ে জমিনে বসেই নামাজ আদায় করবেন। চেয়ারে
বসে আদায় করলে নামজা সহি হবে না। (শামী ২/৫৬৫)।
* হাঁটুতে সমস্যার কারণে অনেকে হাঁটু ভাঁজ করতে পারেন না। এ ধরনের লোকের পক্ষে যদি পশ্চিম দিকে পা ছড়িয়ে জমিনে বসে সম্ভব হয় তাহলে তারা সেভাবেই নামাজ আদায় করবেন। যদি তাও সম্ভব না হয়, কোনোভাবেই তারা জমিনে বসতে না পারেন তাহলে তখনই কেবল চেয়ারে বসে
নামাজ আদায় করা যাবে। তখন চেয়ারে বসে ইশারায় রুকু সিজদা করে নামাজ আদায় করবেন। সিজদার জন্য রুকুর তুলনায় অধিক মাথা ঝুঁকাতে হবে। যদি কেউ কোনোভাবেই বসতে না পারেন তাহলে তিনি চিৎ হয়ে শুয়ে নামাজ আদায় করবেন। পশ্চিম দিকে পা ছড়িয়ে দেবেন। ইশারায় রুকু
সিজদা করবেন। যদি সম্ভব হয় তাহলে পশ্চিমদিকে পা না দিয়ে বরং হাঁটু সোজা করবেন এবং মাথার নিচে বালিশ দিয়ে দেবেন। যাতে অন্তত কিছুটা বসার মতো হয় এবং চেহারা আকাশের দিকে না হয়ে কিবলামুখী হয়। (শামী, বৈরোত, ২/৫৬৯)।
সারকথা
রুকু সিজদা করতে অক্ষম ব্যক্তি দাঁড়াতে সক্ষম হলে দাঁড়িয়ে ইশারায় রুকু সিজদা করে নামাজ আদায় করতে হবে। দাঁড়াতে অক্ষম হলে জমিনে বসা সম্ভব হলে জমিনে বসেই নামাজ আদায় করতে হবে। চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করলে সহি হবে না। যিনি কোনোভাবেই জমিনে বসতে পারেন
না তিনি চেয়ারে বসে ইশারায় রুকু সিজদা করে নামাজ আদায় করবেন।

Tuesday, November 21, 2017

নামাজের নিয়ম

নামাজের নিয়ম

ফরজ নামাজ
দৈনন্দি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ । (১) ফজরের দুই রকাত। (২) জোহরের চার রাকাত। আর জুমার দিন জোহরের পরিবর্তে জুমার দুই রাত। (৩) আছরের চার রাকাত। (৪) মাগরিবের তিন রাকাত। (৫) এশার চার রাকাত ।
নামাজের ওয়াক্ত
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় কখন শুরু হয় আর কখন শেষ হয়, হাদীসে পাকে তার সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা এসেছে। এসকল হাদীসের আলোকে বর্তমানে পৃথিবীর প্রত্যেক দেশেই নামাজের সময় সূচীর চিরস্থায়ী ক্যালেন্ডার তৈরী হয়েছে । পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় কখন শুরু হয় আর কখন শেস হয় এসকল ক্যালেন্ডার থেকে আমরা যেনে নিতে পারি ।
ফরয নামাজ কিভাবে আদায় করতে হয়
পবিত্রতা অর্জ করে নামাজের নিয়্যত করবে। আপনি কোন নামাজ পড়ছেন মনে মনে এতটুকু থাকাই নিয়্যতের জন্য যথেষ্ট। তবে তার সাথে মুখে উচ্চারণ করা উত্তম। তারপর ক্বিবলামুখি হয়ে দাড়াবে, দুই পায়ের গুড়ালি বরাবর থাকবে এবং দুই পায়ের মাঝে চার আংগুল পরিমাণ ফাকা থাকবে। তারপর তাকবীরে তাহ্রীমা অর্থাৎ
الله اڪبر (আল্লাহু আকবার) বলে উভয় হাত কান পর্যন্ত উঠাবে।, এ ক্ষেত্রে হাতের আংগুলগুলো সাভাবিক অবস্থায় ক্বিবলা মুখি থাকবে আর উভয় হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি উভয় কানের লতি বরাবর থাকবে। তারপর হাত নামিয়ে ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি ও কনিষ্ঠা অঙ্গুলি দ্বরা হালকা বানিয়ে বাম হাতের কবজি ধরবে আর বাকী আঙ্গুলগুলো বাম হাতের উপর রাখবে। অতঃপর নাভির নিচে বাধবে। দাড়ানো অবস্থায় দৃষ্টি থাকবে সেজদার জায়গায় । তারপর ছানা পড়বে
سبحانڪ اللهم وبحمدڪ وتبارڪ السمڪ وتعالى جدڪ ولا اله غي
উচ্চারণঃ সুবহানাকাল্লাহুম্মা অবিহামদিকা অতাবারকাসমুকা অতাআলা জাদ্দুকা অলাইলাহা গইরুকা
অর্থঃ হে আল্লাহ পবিত্রতা তোমোর , প্রশংসা তোমার, তোমার নাম সর্বউচ্চে, তোমার শক্তি মহান, তুমি ব্যতীত কোন মা’বুদ নেই।
তারপর اعوذ بالله من الشيطن الرجيم (উচ্চারণঃ আয়ুজু বিল্লাহি মিনাশ্শাই ত্বর্নিরজীম। অর্থঃ বিতারিত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই) পড়বে এবং بسم الله الرحمن الرحيم (উচ্চারণঃ বিসমিল্লার্হিরহমার্নিরহীম। অর্থঃ পরম করুনাময় দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি) পড়বে।
তারপর সূরা ফাতেহা الحمد لله رب العلمين الرحمن الرحيم مالڪ يوم الدين اياڪ نعبد و اياڪ نستعين اهدنا الصراط المستقيم صراط الذين انعمت عليهم غيرالمغصوب غليهم و لا الضلين পড়বে।
উচ্চারণঃ আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আররহমানির রহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন, ইয়্যাকানা’বুদু অইয়্যাকানাসতাইন। ইহদিনাছছিরতল মুসতাকীম। ছিরতল্লাযিনা আনআ’মতা আলাইহিম গইরিল মাগধুবি আলাইহিম। অলাদ্দল্লিন।
অর্থঃ (১) যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তা’আলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালন কর্তা। (২) যিনি নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু। (৩) যিনি বিচার দিনের মালিক। (৪) আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র সাহায্য প্রার্থনা করি। (৫) আমাদেরকে সরল পথ দেখাও, (৬) সে সমস্ত লোকদের পথ যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। (৭) তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং পথভ্রষ্ট হয়েছে।
তারপর কোআনে কারীম থেকে যে কোন একটি সূরা মিলাবে। যেমন ফীল।
الم تر ڪيف فعل ربڪ باصحب الفيل الم يجعل ڪيد هم في تضليل و ارسل عليهم طيرا ابابيل ترميهم بحجارة من سجيل فجعلهم ڪعصف مآ ڪول
উচ্চারণঃ আলামতার কাইফা ফায়ালা রাব্বুকা বিআছহাবিল ফীল । আলাম ইয়াজ আল কাইদাহুম ফী তাদলীল। অআরসালা আলাইহিম তাইরান আবাবিীল। তারমীহিম বিহিজারতিম মিনসিজ্জীল। ফাজাআলাহুম কাআসফিম মাকূল।
অর্থঃ (১) আপনি কি দেখেননি আপনার পালনকর্তা হস্তীবাহিনীর সাথে কিরূপ ব্যবহার করেছেন ? (২) তিনি কি তাদের চক্রান্ত নস্যাৎ করে দেননি ? (৩) তিনি তাদের উপর প্রেরণ করেছেন ঝাঁকে ঝাঁকে পাখী, (৪) যারা তাদের উপর পাথরের কংকর নিক্ষেপ করেছিল। (৫) অতঃপর তিনি তাদেরকে ভক্ষিত তৃণসদৃশ করে দেন।
তারপর তাকবীর বলে রুকুতে যাবে, হাতের আংগুলগুলো ফাকা রেখে দুই হাত দ্বারা উভয় হাটুকে ভালভাবে আকড়ে ধরবে। এবং মাথা, পিঠ ও মাজা সমান থাকবে কোন উঁচু নিচু থাকবে না। রুকুতে থাকা অবস্থায় দৃষ্টি থাকবে পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলির দিকে। তারপর রুকুর তাসবীহ পড়বে।
سبحان ربي العظيم উচ্চারণঃ সুবহানা রাব্বিয়াল আজীম। অর্থঃ আমার মহান প্রতিপালক পবিত্র।
তিন বার পড়বে। তবে পাঁচ বার , সাত বারও পড়তে পারবে। তারপর سمع الله لمن حمده (উচ্চারণঃ সামিয়াল্লাহুলিমান হামিদাহ । অর্থঃ যে আল্লাহর প্রশংসা করে আল্লাহ তার প্রশংসা শুনেন।) বলে রুকু থেকে সুজা হয়ে দাড়াবে। তারপর الله اڪبر বলে সেজদায় যাবে । সেজদায় যাওয়ার সময় দুই হাতে হাটু ধরে সর্বপ্রথম উভয় হাটু একত্রে জমীনে রাখবে। তারপর হাতের আঙ্গুলগুলো মিলানো অবস্থায় দুই হাত জমীনে একত্রে রাখবে। এবং চেহারার চওড়া অনুযায়ী দুই হাতের মাঝে ফাঁকা রাখবে।তারপর দুই হাতের মাঝে সেজদা করবে প্রথমে নাক তারপর কপাল রাখবে উভয় হাতের শধ্যখানে বৃদ্ধ আঙ্গুলদ্বয়ের বরাবরে নাক রাখবে । নজর নাকের উপর রাখবে । পুরুষের পেট রান থেকে বাহু পাজর থেকে হাতের কনুই জমীন থেকে পৃথক রাখবে। পায়ের আঙ্গুল সমূহকে কিবলামুখী করে রাখবে এবং দুই পায়ে গুড়ালি মিলিয়ে না রেখে বরং টাকনু কাছা কাছি রাখবে। যথা সম্ভব পায়ের আঙ্গুলগুলো জমীনের সাথে চেপে ধরে আঙ্গুলের অগ্রভাগ ক্বিবলার দিকে রাখবে। সেজদার মধ্যে তিন বার سبحان ربي الاعلى পড়বে। তবে পাঁচ বার , সাত বারও পড়তে পারবে।
(উচ্চারণঃ সুবহানা রব্বিয়াল আয়লা । অর্থঃ আমার মহান প্রতিপালক মহা পবিত্র।) তিনবার সাতবারও পড়তে পারবে।
তারপর الله اڪبر বলে সেজদা থেকে উঠে বসবে। প্রথম কপাল তারপর নাক তারপর হাত উঠাবে। তারপর বাম পা জমীনে বিছিয়ে তার উপর বসবে। আর ডান পা দার করিয়ে রাখবে । পায়ের আঙ্গুলগুলো কিবলামুখী করে জমীনে রাখবে। দুই হাত উভয় রানের উপর রাখবে। হাতের আঙ্গুলগুলো সামান্য ফাঁকা রেখে আঙ্গুলের মাথার অগ্রভাগ হাটুর কিনারা বরাবর রাখবে। তারপর اللهم اغفرلى ارحمني وارزقني واهدنى পড়বে। তারপর الله اڪبر বলে দ্বিতীয় সেজদা করবে। দ্বিতীয় সেজদা শেষ করে আবার الله اڪبر বলে সেজদা থেকে সুজা দাড়িয়ে যাবে। তারপর দ্বিতীয় রাকাতেও ঠিক প্রথম রাকাতের মতই । প্রথম সূরা ফাতেমা পড়বে । তারপর بسم الله الرحمن الرحيم পড়ে যে কোন একটি সূরা মিলাবে। যেমন সূরা ফীল
لايلف قريش الفهم رحلة الشتاء والصيف فليعبدوا رب هذا البيت الذي اطعمهم من جوع و امنهم من خوف
উচ্চারণঃ লইিলাফী কুরাশনি ইলাফিহিম রিহলাতাশশিতাই অছছইফ ফালইয়াবদু রব্বা হাজাল বাইত আল্লাজি আতআমাহুম মিনজু অআমানাহুম মিন খউফ
অর্থঃ (১) কোরায়েশের আসক্তির কারণে, ৯২) আসক্তির কারণে তাদের শীত ও গ্রীষ্মকালীন সফরের। (৩) অতএব তারা যেন এবাদত করে এই ঘরের পালনকর্তার । (৪) যিনি তাদেরকে ক্ষুধায় আহার দিয়েছেন এবং যুদ্ধভীতি থেকে তাদেরকে রিাপদ করেছেন।
তারপর প্রথম রাকাতের মতই রুকু সেজদা করবে। দুটি সেজদা শেষ করে দুই সেজদার মাঝে বসার ন্যায় বসবে এবং দুই হাত রানের উপর হাটু বরারব রাখবে । আর দৃষ্টি থাকবে কোলের দিকে। তারপর তাশাহ্হুদ পড়বে।
التحيات لله و الصلوات والطيبات السلام عليڪ ايها النبي ورحمة الله وبرڪاته السلام علينا وعلي عباد الله الصلحين اشهد الا اله الا الله واشهد ان محمدا عبده ورسوله
উচ্চারণঃ আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি অছ্ছলাওয়াতু অত্তয়্যিাবাতু আস্সালা মু আলাইকা আইয়ুহান্নাবিয়্যু অরহমাতুল্লাহি অবারকাতুহু আস্সালামু আলানা অআলা ইবাদিল্লাহিছ্ছলিহীন আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাহু অ আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু অরসূলুহু।
অর্থঃ “মৌখিকভাবে পেশকৃত যাবতীয় সম্মান ও অভিবাদন, শরীরিক ও আর্থিক সকল ইবাদত আল্লাহ তা‘আলার জন্য নিবেদিত । হে নবী! আপনার প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে শান্তি রহমত ও বর্কত বর্ষিত হোক। শান্তি আমাদের প্রতি এবং আল্লাহর সকল নেক বান্দার প্রতি বর্ষিত হোক । আমি সাক্ষ দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই এবং এও সাক্ষ দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ সা. আল্লাহর বান্দা ও রাসূল ।”
তাশাহ্হুদ পড়ার সময় ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি ও মধ্যমা অঙ্গুলি দ্বারা হালকা বানাবে এবং اشهد الا اله বলার সময় শাহাদাত অঙ্গুলি উঠাবে الا الله বলার সময় নামিয়ে ফেলবে। বাকী দুটি আঙ্গুল তালুর সাথে মিলিয়ে রাখবে।
নামাজ যদি দুই রাকাত বিশিষ্ট হয়, তাহলে তাশাহ্হুদের পরে দরুদে ইব্রাহীম পড়বে।
اللهم صل علي محمد و علي ال محمد ڪما صليت علي ابراهيم و علي ال ابراهيم انڪ حميد مجيج اللهم بارڪ محمد و علي ال محمد ڪما بارڪت علي ابراهيم ر علي ال ابراهيم انڪ حميد مجيد
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ছাল্লি আলা মুহাম্মাদিউ অ আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা সল্লাইতা আলা ইব্রাহীমা অ আলা আলি ইব্রাহীম ইন্নাকা হামীদুম্মাজীদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিউ অ আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা বারকতা আলা ইব্রাহীমা অ আলা আলি ইব্রাহীম ইন্নাকা হামীদুম্মাজীদ।
অর্থঃ হে আল্লাহ শান্তি বর্ষণ কর মুহাম্মদ সা. এর উপর এবং মুহাম্মদ সা. এর পরিবার বর্গের উপর । যেমনি ভাবে শান্তি বর্ষণ করেছ ইব্রাহীম আ. এর উপর এবং ইব্রাহীম আ. এর পরিবার বর্গের উপর। নিশ্চই তুমি প্রশংসিত ও হে আল্লাহ বরকত দান কর মুহাম্মদ সা. এর উপর এবং মুহাম্মদ সা. এর পরিবার পরিজনের উপর। যেমনি বরকত দান করেছ ইব্রাহীম আ. এর উপর এবং ইব্রাহীম আ. এর পরিবার পরিজনের উপর। নিশ্চই তুমি প্রশংসিত ও
তারপর দোয়ায়ে মাছুরা পড়বে।
اللهم اني ظلمت نفسي ظلما ڪثيرا و لا يغفر الذنوب الا انت فاغفرلي مغفرة من عندڪ انڪ انت الغفور الرحيم
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ইন্নি জলামতু নাফছি জুলমান কাসিরান অলা ইয়াগফিরুজ্জুনুবা ইল্লা আন্তা ফাগফিরলী মাগফিরতাম মিন ইন্দিকা ইন্নাকা আন্তাল গফুরুররহীম।
অর্থঃ হে আল্লাহ আমি আমার নিজের উপর অনেক জুলুম করেছি। তুমি ব্যতীত কেউ ক্ষমাশীল নেই অতএব তোমার পক্ষ থেকে আমাকে ক্ষমা করে দাও। নিশ্চই তুমি ক্ষমাশীল ও দয়ালু।
তাপর السلام عليڪم ورحمة الله ( আস্সালামু আলাইকুম অরহমাতুল্লাহ) বলে সালাম ফিরাবে । প্রথমে ডান পাশে তারপর বাম পাশে। সালাম ফিরানোর সময় দৃষ্টি থাকবে কাঁেধর দিকে ডান পাশে সালাম ফিরানোর সময় ডন কাঁধের দিকে আর বাম পাশে ফিরানোর বাম কাঁধের দিকে। ডান পাশে সালাম ফিরানোর সময় সালামের দ্বারা নিয়্যত থাকবে ডান পাশের ফেরেশÍাদের আর বাম পাশে সালাম ফিরানোর সময় নিয়্যত থাকবে বামপাশের ফেরেশÍাদের ।
আর যদি তিন রাকাত বিশিষ্ট নামাজ হয়, তাহলে দুই রাকাতের পর যে বৈঠক হবে তাহবে প্রথম বৈঠক। এই প্রথম বৈঠকে শুধু তাশাহ্হুদ পড়ে তৃতীয় রাকাতের জন্য দাড়িয়ে যাবে আর তৃতীয় রাকাতে সূরা ফাতেহা পড়বে কিন্তু কোন সূরা মিলাবে না। তৃতীয় রাকাত শেষ করে তাশাহ্হুদ, দুরুদ শরীফ ও দোয়ায়ে মাছুরা পরে সালাম ফিরাবে।
নামাজ যদি চার রাকাত বিশিষ্ট হয়, তাহলে প্রথম বৈঠকে শুধু তাশাহ্হুদ পড়বে তারপর আরো দুই রাকাত পড়বে।আর এই দুই রাকাতে শুধু সূরা ফাতেহা পড়বে, কোন সূরা মিলাবে না। চতুর্থ রাকাতের পরে শেষ বৈঠকে তাশাহ্হুদ, দুরুদ শরীফ ও দোয়ায়ে মাছুরা পড়ে সালাম ফিরাবে।
ওয়াজিব নামাজ
বিতর ও দুই ঈদের নামাজ হলো ওয়াজিব।
বিতরের নামাজ তিন রাকাত। বিতরের নামাজের ওয়াক্ত হলো, এশার নামজ আদায় করার পর থেকে সুবহে সাদেক পর্যন্ত । এ ওয়াক্তের মধ্যে যে কোন সময় বিতরের নামাজ আদায় করতে হবে। যদি শেষ রাতে জাগার অভ্যাস থাকে তাহলে শেষ রাতে বিতরের নামাজ আদায় করা উত্তম । আর জাগ্রত হওয়ার অভ্যাস না থাকলে ঘুমানোর আগেই বিতরের নামাজ আদায় করে নিবে ।
বিতরের নামাজ যেভাবে পড়তে হয়
বিতরের নামাজের তিনো রাকাতে সূরা ফাতেহার পরে সূরা মিলানো ফরজ। আর তৃতীয় রাকাতে ক্বেরাতের পর الله اڪبر বলে কান বরাবর হাত উঠিয়ে আবার নাভীর নিচে হাত বেধে দোয়ায়ে কুনুত পড়বে।
اللهم انا نستعينڪ و نستغفڪ ونؤمن بڪ و نتوڪل عليڪ ونثني عليڪ الخير و نشڪرڪ ولا نڪفرڪ و نخلع ونترڪ من يفجرڪ اللهم اياڪ نعبد ولڪ نصلي و نسجد واليڪ نسعي و نحفد ونرجو رحمتڪ و نخشي عذابڪ ان عذابڪ بالڪفار ملحق
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ইন্না নাসতাইনুকা ,অনাসতাগফিরুকা,অনু-মিনুবিকা, অনাতাঅক্কালু আলাইকা, অনুসনী আলাইকাল খইরা , অনাশকুরুকা , অলানাকফুরুকা, অনাখলা’ ণাতরুকু, মাই ইয়াফ জুরুকা, আল্লাহুম্মা ইয়্যাকানা’বুদু , অলাকানুছল্লি, অনাসজুদু, অইলাইকা নাসআ, অনাহফিদু, অনারজু রহমাতাকা, অনাখশা আযাবাকা, ইন্না আযাবাকা বিলকুফ্ফারি মুলহিক।
অর্থঃ “হে আল্লাহ আমরা আপনার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি । আপনার কাছে হেদায়েত কামনা করছি । আপনার কাছে ক্ষমার আবেদন করছি । আপনার কাছে তওবা করছি । আপনার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করছি । আপনার উপর ভরসা করছি । আপনার সকল কল্যাণের প্রশংসা করছি । আমরা আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি । আমরা আপনার অনুগ্রহ অস্বীকার করি না । আমরা পৃথক চলি । এবং পরিত্যাগ করি এমন লোকদের, যারা আপনার বিরুদ্ধাচারণ করে । “হে আল্লাহ ! আমরা আপনারই ইবাদত করি । এবং আপনারই সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আমরা নামাজ পড়ি ও সিজদা করি । আপনার প্রতিই আমরা ধাবিত হই এবং আমরা আপনার আযাবকে ভয় করি । নিশ্চাই আপনার প্রকৃত আযাব কাফেরদের উপর পতিত হবে । আল্লাহ তা‘আলা নবী সা.-এর প্রতি ও তার পরিবার পরিকনের প্রতি রহমত বর্ষকরুন এবং তাকে শান্তিতে রাখুন ।
তারপর বিতরের নামাজের বাকী নিয়ম অন্যান্য নামাজের মতই।
একনজরে কাজা নামাজের বিধি-বিধান!
কারো যদি কোন নামায কাযা হয়ে যায়, তবে যখনই স্মরণ হবে তখন তা পড়ে নেবে এবং ওয়াক্তিয়া নামাযের উপর তাকে অগ্রবর্তী করবে। এ বিষয়ে মূলনীতি এই যে, ওয়াক্তিয়া ফরয় নামায ও কাযা নামাযসমূহের মাঝে তারবীত বা ক্রমে রক্ষা করা আমাদের ওয়াজিব।

কারো যদি কোন নামায কাযা হয়ে যায়, তবে যখনই স্মরণ হবে তখন তা পড়ে নেবে এবং ওয়াক্তিয়া নামাযের উপর তাকে অগ্রবর্তী করবে। এ বিষয়ে মূলনীতি এই যে, ওয়াক্তিয়া ফরয় নামায ও কাযা নামাযসমূহের মাঝে তারবীত বা ক্রমে রক্ষা করা আমাদের ওয়াজিব। আর ইমাম শাফিঈ (র.) এর মতে তা মুসতাহাব। কেননা প্রতিটি ফরজ নামায নিজস্ব ভাবে সাব্যস্ত। সুতরাং অন্য ফরযের জন্য তা শর্ত হতে পারে না। আমাদের দলীল হলো রাসূলুল্লাহ্ (সা.) এর বাণী- যে ব্যক্তি নামাযের সময় ঘুমিয়ে যায় অথবা নামাযের কথা ভুলে যায় আর তা ইমামের সাথে নামাযে শরীক হওয়ার পরই শুধু মনে পড়ে, সে যেন নামায আরম্ভ করেছে তা পড়ে নেয়। এরপর যে নামাযের কথা মনে পড়েছে, তা পড়ে নেবে এরপর ইমামের সাথে যে নামায আদায় করেছে, তা পুনরায় পড়ে নেবে। যদি ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাওয়ার আশংকা হয়, তবে ওয়াক্তিয়া নামায আগে পড়ে নেবে এরপর কাযা নামায আদায় করবে। কেননা সময় সংকীর্ণতার কারণে, তেমনি ভুলে যাওয়ার কারণে এবং কাযা নামায বেশী হওয়ার কারণে তারতীব রহিত হয়ে যায়, যাতে ওয়াক্তিয়া নামায ফউত হয়ে যাওয়ার উপক্রম না হয়ে পড়ে। যদি কাযা নামাযকে আগে পড়ে নেয় তবে তা দুরস্ত হবে। কেননা তা আগে পড়তে নিষেধ করা হয়েছে অন্যের কারণে। (কাযা নামাযের নিজস্ব কোন কারণে নয়) পক্ষান্তরে যদি সময়ের মধ্যে প্রশস্ততা থাকে এবং ওয়াক্তিয়া নামাযকে অগ্রবর্তী করে তবে তা জাইয হবে না। কেননা হাদীছ দ্বারা উক্ত নামাযের জন্য যে ওয়াক্ত সাব্যস্ত হয়েছে, তার পূর্বে সে তা আদায় করেছে।
যদি কয়েক ওয়াক্ত নামায ফউত হয় তবে মুলতঃ নামায যে তারতীবে ওয়াজিব ছিল, কাযা নামাযও সে তারতীবে আদায় করবে। কেননা খন্দকের যুদ্ধে নবী (সা.) এর চার ওয়াক্ত নামায কাযা হয়েছিলো, তখন তিনি সেগুলো তারতীবের সাথে কাযা করেছিলেন। তারপর বলেছিলেন- আমাকে যেভাবে সালাত পড়তে দেখেছো, সেভাবে তোমারও সালাত পড়ো। তবে যদি কাযা সালাত হয় ছয় ওয়াক্তের বেশী হয়ে যায়। কেননা কাযা সালাত বেশী পরিমাণে হয়ে গেছে; সুতরাং কাযা সালাতগুলোর মাঝেও তারতীব রহিত হয়ে যাবে, যেমন কাযা সালাত ও ওয়াক্তিয়া সালাতের মাঝে রহিত হয়ে যায়। আধিক্যের পরিমাণ হলো কাযা নামায ছয় ওয়াক্ত হয়ে যাওয়া। অর্থাত্ ষষ্ঠ নামাযের ওয়াক্ত পার হয়ে যাওয়া। জামেউস সাগীব কিতাবের নিম্নোক্ত ইবারতের অর্থ এটাই। যদি একদিন একরাত্রের অধিক নামায কাযা হয়ে যায়, তাহলে যে ওয়াক্তের নামায প্রথমে কাযা করে তা জাইয হবে। কেননা একদিন একরাত্রের অধিক হলে নামাযের সংখ্যা ছয় হয়ে যাবে। ইমাম মুহাম্মদ (র.) হতে বর্ণিত যে, তিনি ষষ্ঠ ওয়াক্ত দাখিল হওয়ার বিষয় বিবেচনা করেছেন। তবে প্রথমোক্ত মতটিই বিশুদ্ধ। কেননা পুনঃ আরোপিত হওয়ার সীমায় উপনীত হওয়া দ্বারা আধিক্য সাব্যস্ত হয়। আর তা প্রথমোক্ত সুরতে রয়েছে। যদি পূর্বের ও সাম্প্রতিক কাযা সালাত একত্র হয়ে যায়, তবে কোন কোন মতে সাম্প্রতিক কাযা সালাত স্মরণ থাকা সত্ত্বেও ওয়াক্তিয়া সালাত আদায় করা জাইয হবে। কেননা কাযা সালাত অধিক হয়ে গেছে। কোন কোন মতে জাইয হবে না এবং বিগত কাযা নামাযগুলোকে ‘যেন তা নেই’ ধরে নেয়া হবে যাতে ভবিষ্যতে সে এ ধরনের অলসতা থেকে সতর্ক হয়।
যদি কিছু কাযা সালাত আদায় করে ফেলে এবং অল্প পরিমাণ অবশিষ্ট থাকে, তবে কোন কোন ইমামের মতে ‘তারতীব’ পুনঃ আরোপিত হবে। এই মতই অধিক প্রবল। কেননা ইমাম মুহাম্মদ (র) হতে বর্ণিত আছে যে, যদি কেউ একদিন ও এক রাত্রের নামায তরক করে আর পরবর্তী দিন প্রতি ওয়াক্তিয়া সালাতের সাথে এক ওয়াক্তের কাযা সালাত আদায় করতে থাকে, তবে কাযা সালাতগুলো সর্বাবস্থায় জাইয হবে। পক্ষান্তরে ওয়াক্তিয়া সালাত যদি (কাযা সালাতের) আগে আদায় করে, তবে তা ফাসিদ হয়ে যাবে। কেননা, কাযা নামাযগুলো অল্প এর গণ্ডিতে এসে গেছে। আর যদি ওয়াক্তিয়াকে (কাযা নামাযের) পরে আদায় করে, তবে একই হুকুম হবে। কিন্তু পরবর্তী ‘ঈশার নামাযের হুকুম ভিন্ন (অর্থাত্ আদায় হয়ে যাবে)। কেননা তার ধারণা মতে তো ‘ঈশার সালাত আদায় করার সময় তার যিম্মায় কোন কাযা সালাত নেই। যুহর আদায় করেনি, একথা স্মরণ থাকা অবস্থায় কেউ যদি আসরের সালাত পড়ে, তবে তা ফাসিদ হবে। কিন্তু একেবারে শেষ ওয়াক্ত স্মরণ থাকা অবস্থায় পড়ে থাকলে ফাসিদ হবে না। এটা তারতীব সংক্রান্ত মাসআলা। অবশ্য ইমাম আবূ হানীফা ও আবূ ইউসূফ (র.) এর মতে (উক্ত আসরের নামাযের) ফরজগুণ নষ্ট হয়ে গেলেও মূল নামায বাতিল হবে না)। বরং নফল রূপে গণ্য হবে। আর ইমাম মুহাম্মদ (র.) এর মতে মূল নামাযও বাতিল হয়ে যাবে। কেননা ‘ফরযিয়াতের’ জন্যই তাহরীমা বাধা হয়েছিল। সুতরাং ফরযিয়াত যখন বাতিল হয়ে গেল, তখন মূল তাহরীমাও বাতিল হয়ে যাবে।
ইমাম আবূ হানীফা ও আবূ ইউসূফ (র.) এর দলীল এই যে, তাহরীমা বাধা হয়েছে মূলতঃ সালাতের জন্য ফারযিয়াতের গুণ সহকারে, সুতরাং ফরযিয়াতের গুণ বিনষ্ট হওয়ার কারণে মূল সালাত বিনষ্ট হওয়া জরুরী নয়। তবে আসর ফাসিদ হবে স্থগিতাবস্থায়, অতএব যদি যুহরের কাযা আদায় না করে ধারাবাহিক ছয় ওয়াক্ত নামায পড়ে ফেলে তবে সব ক’টি ওয়াক্তের নামাযই জাইয রূপান্তরিত হয়ে যাবে। এটা ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর মত। ইমাম আবূ ইউসূফ ও মুহাম্মদ (র.) এর মতে চূড়ান্ত ভাবেই তা ফাসিদ হয়ে যাবে। কোন অবস্থাতেই তা পুনঃবৈধতা পাবে না। এ বিষয়ে যথাস্থানে আলোচিত হয়েছে। ‘বিতর পড়েনি’ একথা স্মরণে থাকা অবস্থায় কেউ যদি ফজরের নামায আদায় করে, তবে তা ফাসিদ হয়ে যাবে। এটা আবূ হানীফা (র.) এর মত। ইমাম আবূ ইউসূফ ও মুহাম্মদ (র.) ভিন্নমত পোষণ করেন। এ মতভিন্নতার ভিত্তি এই যে, ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর মতে বিতর হল ওয়াজিব। পক্ষান্তরে সাহেবাইনের মতে তা সুন্নত। আর সুন্নত ও ফরজ নামাযসমূহের মাঝে তারতীব জরুরী নয়। বিতরের ব্যাপারে এই মতপার্থক্যের ভিত্তিতেই (এ মাসআলা রয়েছে)। কেউ যদি ‘ঈশার নামায পড়ার পর পুনরায় উযূ করে সুন্নত ও বিতর আদায় করেন। অতঃপর প্রকাশ পেল যে, ‘ঈশার সালাত সে বিনা উযূতে পড়েছে, তবে আবূ হানীফা (র.) এর মতে শূধু ‘ঈশা ও সুন্নত পুনঃআদায় করবে, বিতর নয়। কেননা তার মতে বিতর স্বতন্ত্র ফরজ আর সাহেবাইনের মতে বিতরও পুনঃ আদায় করতে হবে। কেননা তা ‘ঈশা’ এর অনুবর্তী। আল্লাহই উত্তম জানেন।
দুই ঈদের নামাজ
অন্যান্য নামাজের সাথে ঈদের নামাজের পার্থক্য হলো , দুই রাকাতে অতিরিক্ত ছয়টি তাকবীর বলতে হয়। প্রথম রাকাতে ছানা পড়ার পর অতিরিক্ত তিনটি তাকবীর বলবে। প্রত্যেক তাকবীর বলার সময় দুই হাত কান বরাবর উঠিয়ে নাভীর নিচে না বেধে নিচের দিকে ছেড়ে দিবে। তিনটি তাকবীর বলা শেষ হলে নাবীর নিচে হাত বাধবে। আর দ্বিতীয় রাকাতে ক্বেরাতের পর অতিরিক্ত তিনটি তাকবীর বলবে একই নিয়মে তারপর চতুর্থ তাকবীর বলে রুকুতে যাবে। বাকী সব নিয়ম অন্য নামাজের মতই।
সুন্নত নামাজ
(১)ফজরের ফরযের পূর্বে দুই রাকাত নামাজ আদায় করা সুন্নত।
(২) জোহরের ফরযের আগে চার রাকাত ও ফরযের পরে দুই রাকাত নামাজআদায় করা সুন্নত।
(৩) জুমার ফরযের আগে চার রাকাত ও ফরযের পরে চার রাকাত নামাজ আদায় করা সুন্নত।
(৪) মাগরিবের ফরযের পরে দুই রাকাত নামাজ আদায় করা সুন্নত।
(৫) এশার ফরযের পরে দুই রাকাত নামাজ আদায় করা সুন্নত।
এসকল সুন্নত নামাজ সুন্নাতে মুয়াক্কাদা বলা হয়। কোন ধরনের ওযর ছাড়া এসুন্নতগুলো তরক কারী গুনাহগার হবে।
সুন্নত নামাজ পড়ার নিয়ম
সুন্নত নামাজের প্রতি রাকাতে সূরা ফাতেহার পর সূরা মিলাতে হবে আর বাকী সকল নিয়ম অন্যান্য নামাজের মতই। সুন্নত নামাজ যদি সুন্নতে গায়রে মুয়াক্কাদা ও নফল হয় এবং চার রাকাত বিশিষ্ট হয় , তাহলে দ্বিতীয় রাকাতে তাশাহ্হুদের পরে দুরুদ শরীফ ও দু‘আয়ে মাছুরা পড়াও উত্তম ।
জামা আতের সাথে নামাজ আদায় করলে মুক্তাদিগনের করণীয়
ইমামের পিছনে যারা ইক্তেদা করে তাদেরকে মুক্তাদি বলে । ইমামের পিছনে নামাজ আদায় করার নিয়্যত করতে হবে তা ছাড়া নামাজ আদায় হবে না । মুক্তাদিগন ইমামের তাকবীরে তাহরীমা বলার পর তাকবীর বলে কান বরাবর হাত উঠাবে । তারপর নাভীর নিচে হাত বাঁধবে । তারপর ছানা পড়ে চুপ করে ইমাম ক্বেরাত একাগ্র চিত্তে শুনতে থাকবে আর যদি ইমাম আস্তে ক্বেরাত পড়ে তাহলে আল্লাহ পাকের প্রতি মনোনিবেশ করে দাড়িয়ে থাকবে । ইমাম যখন রুকু সেজদার জন্য তাকবীর বলবে মুক্তাদিগনও অনুচ্চ আওয়াজে তাকবীর বলে ইমামসাহেবকে অনুরণ করবে । ইমাম সাহেব যখন সামিআল্লাহুলিমান হামিদাহ বলে রুকু থেকে উঠবে মুক্তাগণ তখন রাব্বানা লাকালহামদু বলে ইমামের পরে রুকু থেকে সুজা হয়ে দাড়াবে
প্রত্যেক রুকু সেজদায় মুক্তাদিগণও রুকু সেজদার তাসবীহ পড়বে । এবং প্রথম বৈঠকে তাশাহ্হুদ পড়বে এবং দ্বিতীয় বৈঠকে তাশাহ্হুদ দুরুদ শরীফ ও দোয়ায়ে মাসুরা পড়বে । তারপর ইমামের সালামের সাথে সালাম ফিরাবে। ডান দিকে সালাম ফিরানোর সময় নিয়্যত করবে ডান পাশের মুসুল্লি ও ফেরেশÍাদের ও ইমাম ডানে থাকলে ইমামের আর বাম দিকে সালাম ফিরানোর সময় নিয়্যত করবে বাম পাশের মুসুল্লি ফেরেশÍার এবং বামে ইমাম থাকলে ইমামের
মহিলাদের নামাজ
মহিলাদের নামাজের নিয়ম প্রায় পুরুষের নামাজের মতই। তবে কয়েকটি ক্ষেত্রে ব্যাবধান আছে তা হলো, দাড়ানো অবস্থায় দুই পা মিলিয়ে রাখবে । তাকবীরে তাহরীমা বলার সময় মহিলারা কাধ পর্যন্ত হাত উঠাবে। তারপর বুকের উপর হাত বাধবে বাম হাতের পিঠের উপর ডান হাতের তালু রাখবে । রুকুতে পুরুষের মত উভয় হাতে হাটুতে ভাল করে ধরবে না বরং দুই হাতের আংগুল মিলিত রেখে হাটুকে স্পর্স করবে এবং দুই পায়ের টাখনু মিলিয়ে রাখবে । পুরুষের রুকুর মত মাথা পিঠ ও মাজা সমান হবে না । সেজদার মাঝে মহিলারা দুই পা বাম দিক দিয়ে বের করে ডান নিতম্বের উপর বসবে তারপর হাত জমীনে বিছিয়ে সেজদা করবে। পেট রানের সাথে মিলিয়ে বাহু পাজরের সাথে মিলিয়ে এবং হাতের কনুই জমীনের সাথে মিলিয়ে যথা সম্ভব জমীনের সাথে চেপে ধরে সেজদা করবে । বসার সময় দুই পা বাম দিকে বের করে দিয়ে ডান নিতম্বের উপর বসবে। মহিলাদের নামাযের বাকী নিয়ম পুরুষের নামাযের মতই।

বাংলা MCQ

বাংলা MCQ সবগুলো প্রশ্নের উত্তর একেবারে নিচে দেয়া হয়েছে।  ১. বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন কোনটি? ক) পিনাক্লিয়েট ডাক্সন খ)  বুর্জ খলিফা  গ) সি...